গ্রেপ্তার সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পরেই মা-বাবাকে নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। কিন্তু অবশেষে দমদম থেকে পুলিশের জালে আটক তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার। থানায় নিয়ে আসা হয়েছে তাঁকে।
এক তরুণী শমীকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হন। ২২ বছর বয়সি ওই তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে বন্দি করে রাখেন শমীক। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি সেখানে আটক ছিলেন। আইনজীবী অভিষেক দে বিশ্বাস জানান, শমীক তাঁর পরিচিত বন্ধু। বাড়ি বদলের সময় সাহায্যের অজুহাতে তাঁকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠান শমীক। এরপরই তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং সারারাত ধরে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। তরুণী পুলিশের দ্বারস্থ হতেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান শমীক। তাঁর মা-বাবারও খোঁজ মেলে না।
বৃহস্পতিবার দমদম থেকে শমীককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একটি ভিডিওর সুবাদে কয়েকদিন আগেই যিনি সকলের ‘নায়ক’ হয়ে উঠেছিলেন, তাঁকেই চাদরে মুখ ঢেকে ধরে নিয়ে আসা হয় থানায়। এখনও পর্যন্ত শমীকের তরফ থেকে এই বিষয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনজীবীর তরফে আরও জানা যায় যে, পুরো ঘটনায় শমীকের বাবা-মাও তাঁকে সহযোগিতা করেন। অভিযোগকারিণী তাঁদের কাছে সাহায্য চাইলে, উল্টে তাঁরা নাকি তাঁর শরীরের আঘাতের চিহ্ন লুকোনোর চেষ্টা করেন। এখানেই শেষ নয়। পরদিন বিকেলে কোনও রকমে ওই তরুণী শমীকের ফ্ল্যাট থেকে বেরতে সক্ষম হলেও, তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন মারধরের দাগগুলোকে আলনায় ধাক্কা লাগার আঘাত বলে চালান। এমনকি সেই দাগ ঢাকতে তাঁর ফোন থেকেই মেকআপ অর্ডার করানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
কয়েকদিন আগেই ‘বাটন’ বলে একটি ভিডিও বানিয়ে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন শমীক। তাঁর সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়েছিলেন অনুরাগীরা। তারপরেই তাঁর নামে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ, গ্রেপ্তার। প্রশ্নের মুখে শমীকের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কেরিয়ার।
