সমাজের এক অধরা দিকের গল্প বলতে আসছেন পরিচালক কুমার চৌধুরী। প্রসূন মুখার্জির প্রযোজনায় আসছে 'সব খবরই বিশেষ নয়'।
গল্পে দেখা যাবে অমলের জীবনে বাবাকে ঘিরে কিছু অদ্ভুত, অস্পষ্ট স্মৃতি রয়ে গেছে। অন্যদিকে লোপা যেন সচেতনভাবেই তার বাবার স্মৃতিকে ভুলে থাকতে চায়। ব্যক্তিগত জীবনের গভীরে লুকিয়ে আছে এক গভীর শোক দশ বছর আগে হারানো সন্তান, যার পর থেকে তাদের জীবনে আর কোনও নতুন আলো আসেনি। ২০২০ সালের জুন মাস এক অস্বাভাবিক, অনিশ্চয়তায় ভরা সময়। সেই প্রেক্ষাপটে অমল ও লোপা কলকাতা থেকে নিজেদের গাড়িতে রওনা দেয় গ্রামের বাড়িতে থাকা মাকে নিয়ে আসতে। পথের মাঝে তারা থামে বীরপুরে একটি স্থান, যা অমলের অতীতের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কারণ, ঠিক পরের দিনই তার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী যিনি কুড়ি বছর আগে এই বীরপুরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন।
এই যাত্রাপথে, কিছু অচেনা মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কথোপকথনের মধ্য দিয়ে তারা আবিষ্কার করে এক ভিন্ন বাস্তবতা। অসুস্থ সময়, মৃত্যুর ছায়া ও অনিশ্চয়তার মাঝেও তারা উপলব্ধি করে মানুষ কীভাবে ভেঙে পড়ে না, বরং ঘুরে দাঁড়ায়। কীভাবে বিশ্বাস, ভালবাসা এবং মানবিকতা এখনও অটুট থেকে যায়।
মৃত্যুর মিছিলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে, এই ছবি আসলে অনেকগুলো জীবনের গল্পের সমষ্টি একটি অন্তর্দর্শনের যাত্রা, যেখানে জীবনকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই হয়ে ওঠে প্রধান সুর।
ছবির মুখ্য চরিত্রে দেখা যেতে চলেছে প্রসূন গাইন, পিয়ালী দাস, দেবপ্রসাদ হালদারকে। এছাড়াও রয়েছেন রণজয় ভট্টাচার্য, রঞ্জিনী চ্যাটার্জি, শিপ্রা লাহিড়ী ও কাজল শম্ভুকে। ছবিতে ক্যামেরার দায়িত্ব সামলেছেন মানস ভট্টাচার্য। এডিট করেছেন 'নধরের ভেলা'র পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য। গানের দায়িত্বে ছিলেন মেঘ ব্যানার্জি।
এই ছবিটি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং মনোনিত হয়েছে কুয়ালা লুমপুর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস, নিউ জার্সি ইন্ডিয়ান অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, এ রয়্যাল চান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও জাগরণ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।
