মধ্য এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এর প্রভাব ইতিমধ্যেই ভারতের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। সোনার আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে কেন্দ্র সরকার দাম বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
2
12
এবার আশঙ্কা করা হচ্ছে, পেট্রোল ও ডিজেলের দামও শীঘ্রই বাড়তে পারে। কারণ, ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
3
12
এই আশঙ্কা এখন আর শুধুই বাজারের জল্পনা নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সকলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক তেলের বাড়তি দাম সাধারণ মানুষের থেকে লুকিয়ে রাখা সম্ভব নাও হতে পারে।
4
12
গত কয়েক দিনে কেন্দ্র সরকারের তরফে একাধিক বার্তা সামনে এসেছে। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমাতে হবে, সম্ভব হলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করতে হবে এবং এক বছরের জন্য বিয়ের সোনা কেনা এড়িয়ে চলতে হবে, যাতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর চাপ কমে।
5
12
এরপর পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানায়, দেশে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সংযমের কথা বলেন এবং সরকারি কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলেও খবর প্রকাশ্যে আসে।
6
12
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের এই দ্বৈত বার্তা আসলে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আপাতত বড় সংকট না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ তেলের দামের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।
7
12
ধবার কেন্দ্র সরকার সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। ফলে দেশীয় বাজারে সোনার দাম আরও বেড়েছে। এর কয়েক দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “বিশ্বজুড়ে পেট্রোল-ডিজেলের দাম অত্যন্ত বেড়েছে। তাই জ্বালানি সংরক্ষণ করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।”
8
12
এদিকে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা সুইজারল্যান্ডে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বলেন, “যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে একসময় সরকারকে জ্বালানির বাড়তি খরচ সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দিতেই হবে।”
9
12
আইএমএফও একই সুরে বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব গ্রাহকদের উপর পড়া স্বাভাবিক। যদিও ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো সামর্থ্য এখনও রয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।
10
12
তবে আতঙ্কের মধ্যেও কেন্দ্র সরকার আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারতের প্রতিদিনের অপরিশোধিত তেলের চাহিদা প্রায় ৫৫ লক্ষ ব্যারেল। বর্তমানে বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানির ফলে সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে।
11
12
সরকারের দাবি, এখন ভারত প্রায় ৪০টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে এবং মোট আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশই হরমুজ প্রণালীর বাইরের রুট দিয়ে আসে। এছাড়া আরও দুটি বড় তেলের কার্গো ভারতমুখী রয়েছে, যা আগামী দিনে সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
12
12
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন রিফাইনারি অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে, কোথাও কোথাও ১০০ শতাংশেরও বেশি উৎপাদন চলছে। তবুও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।