তালসারিতে রাহুলের শুটিংয়ের যে ছবি, ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল সেখানে অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র ছাড়াও দেখা গিয়েছিল অভিনেতা সিদ্ধার্থ সেনকে। গল্পে তিনি শ্বেতার প্রাক্তন প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। সেদিন তালসারির সমুদ্র সৈকতে রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির সঙ্গে তাঁরও সিন ছিল। কিন্তু হঠাৎই ঘটে সেই অঘটন। সাতদিন কেটে গেলেও যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না শ্বেতা কিংবা সিদ্ধার্থের সঙ্গে। তবে এবার আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে কথা বললেন সিদ্ধার্থ সেন। 

এখনও আতঙ্ক কাটেনি তাঁর। চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতেই বিশ্রামে রয়েছেন অভিনেতা। চোখের সামনেই রাহুলকে জলে তলিয়ে যেতে দেখেছেন তিনি। তাই একপ্রকার শকে আছেন সিদ্ধার্থ। শারীরিক অবস্থা ভাল না থাকার কারণে রাহুলের বাড়িতে কিংবা প্রতিবাদ মিছিলে দেখা যায়নি তাঁকে। 

সিদ্ধার্থ সেন বলেন, "মাথায় সবসময় ঘুরছে সেদিনের ঘটনাটা। চোখের সামনেই শুটিং করতে করতে রাহুলদা জলে তলিয়ে গেল। অনেকেই বলছে শ্বেতাকে আগে উদ্ধার করা হয়েছিল, রাহুলদা জলে এক, দেড় ঘণ্টা বেশি ছিল। কিন্তু আমি তো দেখেছি, দু'জনকেই একসঙ্গে জল থেকে তোলা হয়েছিল। হাসপাতালে যাওয়ার সময়ই সব শেষ।"

সিদ্ধার্থের কথায়, "যখন জানতে পারি রাহুলদা আর নেই, তারপর থেকেই শরীরের মধ্যে অস্বস্তি হতে থাকে। ঘুমাতে পারছি না ঠিক করে। জনসমক্ষে আসছি না বলে অনেকেই অনেককিছু ভাবছেন, কিন্তু আমি এই প্রসঙ্গে বারবার কথা বলতে পারছি না। বাড়িতেও এই নিয়ে কথা উঠছে না, যাতে আমি সুস্থ থাকতে পারি। চোখের সামনে দেখা এই ঘটনা ভোলা সম্ভব নয়। রাহুলদার মৃত্যুর তদন্ত হচ্ছে জেনে খুশি হয়েছি। আমিও চাই সত্যিটা যেন সবার সামনে আসে, তাহলে সবার মাথার মধ্যে যে হাজার প্রশ্ন ঘুরছে সেসব বন্ধ হবে।"

হুট করেই 'ভোলেবাবা পার করেগা'র নতুন সিজন শুরু হয়েছে। আগাম নোটিশ পেয়েছিলেন তাঁরা? অভিনেতার কথায়, "না আগে কিছুই জানতাম না। লিখিত কোনও নোটিশ পাইনি। আগেরবার গল্পের সঙ্গে কিছু কানেকশন রেখে নতুন সিজন এসেছিল। এবার কী হবে জানি না এখনও।"

শ্বেতার কী অবস্থা? সিদ্ধার্থের কথায়, "ও খুব কষ্টে আছে। শারীরিকভাবে তেমন ক্ষতি না হলেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ওর সঙ্গে কথা হয়নি, ও কথা বলার অবস্থায় নেই। ওর মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে আছে বলেই জানি।"