অকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। তাঁর মৃত্যু ঘিরে রহস্য আজও অটুট। অভিনেতার জীবনযাপন, কাজের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং রহস্যে মোড়া মৃত্যুকে ঘিরে কৌতূহল আজও ফুরোয়নি। তিনি বেঁচে থাকলে ২১ জানুয়ারি পা দিতেন ৪০ বছরে। সুশান্তের জন্মদিনে আবেগঘন বার্তা তাঁর দিদি শ্বেতা সিং কীর্তির।

ভাইয়ের উদ্দেশ্যে শ্বেতা লেখেন, ‘অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি ওকে মিস করো? আমি তখন হেসে ফেলি। কারণ, যে আমার হৃদস্পন্দনের সঙ্গে জুড়ে আছে, তাকে কীভাবে মিস করি? এখন প্রতিটি হৃদস্পন্দনের সঙ্গে ওকে শুনি, প্রতিটি মুহূর্তে ওকে নিয়েই বাঁচি। আমার প্রতিটি প্রার্থনায়, প্রতিটি নীরবতায়, প্রতিটি হাসিতে ও মিশে আছে। ধীরে ধীরে বুঝতে পারছি, প্রতিদিন একটু একটু করে আমিও ওর মতো হয়ে উঠছি। যার হৃদয় ছিল খাঁটি সোনার মতো, যার আত্মা ছিল অফুরান কৌতূহলে ভরা, নির্মল, সাহসী ও আলোকোজ্জ্বল, তোমায় আমার স্যালুট, ভাই।’

এরপর তিনি আরও লেখেন, ‘তুমি শুধু একটা জীবন কাটাওনি, তুমি রেখে গিয়েছ এক বিশেষ স্পন্দন, এক আলো, যা আজও লক্ষ লক্ষ মানুষকে পথ দেখায়। তুমি শুধু একজন অভিনেতা ছিলে না, তোমার ছিলে এক অনুসন্ধানী মন, এক চিন্তক, এক স্বপ্নদ্রষ্টা, যে ভালবাসত মহাবিশ্ব আর তার রহস্যকে। যে তারাদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছিল, সীমার বাইরে গিয়ে ভাবতে শিখিয়েছিল। গভীরভাবে বিস্মিত হতে, সাহসের সঙ্গে ভালবাসতে এবং ঈশ্বরের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করেছিল।’

শ্বেতা আরও যোগ করেন, ‘তোমার সত্তা চিরন্তন। তুমি কোনও স্মৃতি নও, তুমি এক শক্তি। তুমি চলে যাওনি, তুমি সর্বত্র। আমার সোনা-ভাই, তোমাকে ভালবাসি।’

https://www.instagram.com/reels/DTwarEHkRU9/

২০২০ সালের জুন মাসে কোভিড অতিমারির সময় আচমকাই সামনে আসে সুশান্তের মৃত্যুসংবাদ। মুম্বইয়ের বাড়িতে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবার প্রথম থেকেই মৃত্যুর পিছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে সিবিআই। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সিবিআই ক্লোজার রিপোর্ট জমা দেয় এবং জানায়, এই ঘটনায় কোনও অপরাধমূলক যোগসূত্রের প্রমাণ মেলেনি।

টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘কিস দেশ মে হ্যায় মেরা দিল’  দিয়ে অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেন সুশান্ত। পরে ‘পবিত্র রিশতা ’ ধারাবাহিকে মানব চরিত্রে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছন। ২০১৩ সালে ‘কাই পো চে!’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন তিনি। এরপর ‘পি কে’, ‘এম.এস. ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’, ‘কেদারনাথ’, ‘ছিছোরে’র একাধিক সফল ছবিতে অভিনয় করেন। মৃত্যুর পর তাঁর শেষ ছবি ‘দিল বেচারা’ মুক্তি পায় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে।