ভারতীয় সঙ্গীত জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি। তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ কোটি কোটি শ্রোতা। কিন্তু সাফল্যের শিখরে থেকেও এবার ইন্ডাস্ট্রির লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে মুখ খুললেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল। সম্প্রতি মুম্বই সংবাদমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে ভারতের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে পুরুষদের একাধিপত্য এবং নারীদের অবহেলার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতীয় সমাজ এবং সঙ্গীত জগৎ আজও ‘পুরুষতান্ত্রিক’ মানসিকতা প্রবলভাবে গেঁথে রয়েছে।

শ্রেয়া জানান, বর্তমানের জনপ্রিয় মিউজিক চার্টগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে মূলত পুরুষ গায়কদেরই জয়জয়কার। মহিলা সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য জায়গা সেখানে খুবই সীমিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার কেবল পুরুষ কণ্ঠই প্রাধান্য পায়? গান নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রচারের আলো,সবক্ষেত্রেই নারীরা যেন কিছুটা পিছিয়ে থাকেন বা তাঁদের রাখা হয়।


শ্রেয়ার কথায়, "ভারত এখনও কিছুটা পুরুষতান্ত্রিক। সঙ্গীত জগতেও এর প্রতিফলন স্পষ্ট। মিউজিক চার্টগুলো দেখলেই বোঝা যায়, সেখানে পুরুষদের আধিপত্য কতটা বেশি।"


তিনি আরও বলেন, "আমাকে দেখান তো চার্টে মেয়েদের গাওয়া ক’টা গান আছে! আমি তো খুব একটা খুঁজে পাই না। টপ ১০-এর কথা তো বাদই দিলাম, আপনি যদি সেরা ৫০টি গানের তালিকাও দেখেন, সেখানে বড়জোর ৬-৭টি গান মেয়েদের। বিষয়টা এখন এতটাই একপেশে হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দেশে আগে কিন্তু এমনটা ছিল না। এই ভারসাম্যহীনতা খুব সম্প্রতি তৈরি হয়েছে।"

অতীতের উদাহরণ টেনে শ্রেয়া বলেন, "লতা মঙ্গেশকর বা আশা ভোঁসলেদের সময়টা দেখুন, কীভাবে তাঁরা সেই যুগটাকে শাসন করেছেন! তাঁরা সমসাময়িক পুরুষ গায়কদের চেয়েও অনেক বড় তারকা ছিলেন। বছরে তাঁদের গানের সংখ্যাও ছিল প্রচুর। এখন সেই চিত্রটা বদলে গিয়েছে। আমার মনে হয় গত ১০ বছর ধরে আমরা একটা ঘোর বা বিভ্রান্তির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তবে ফিউশন আর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে করতে আশা করি আমরা আবার সেই স্বচ্ছতায় ফিরতে পারব।"

গায়িকার এই ক্ষোভ উঠে এসেছে সমাজমাধ্যমে। নেটিজেনদের মাধ্যমে এখন ভাইরাল শ্রেয়ার এই লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে করা মন্তব্য।