সঞ্জয় লীলা ভন্সালি আর শ্রেয়া ঘোষালের যুগলবন্দি যেন এক অনন্য সৃজনশীল জাদুর গল্প। ভন্সালির নান্দনিকতা আর শ্রেয়ার মোহনীয় কণ্ঠ যখন মিলে যায়, তখন জন্ম নেয় কালজয়ী সব শিল্পকর্ম। এই পরিচালক-গায়িকার জুটি ভারতীয় সিনেমাকে উপহার দিয়েছে অসংখ্য সুন্দর গান, যার সূচনা হয়েছিল ‘দেবদাস’ (২০০২)-এর মাধ্যমে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া অকপটে স্বীকার করেছেন, তাঁর কেরিয়ারের আলোয় আসার পথে ভন্সালির অবদান ছিল সবচেয়ে বড়। অভিষেকের সেই মুহূর্তের কথা মনে করে শ্রেয়া জানান, কতটা আস্থা আর শৃঙ্খলার সঙ্গে তিনি ভন্সালির হাতে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন।
শ্রেয়ার কথায়. “তখন খবর ছড়িয়ে পড়েছিল যে, সঞ্জয়জির ছবিতে এক নতুন কণ্ঠস্বর আসছে। হঠাৎ করে অনেকেই আমাকে ফোন করে বলছিলেন, ‘আমাদেরও একটা গান আছে, তুমি করে দাও। ’ কিন্তু আমি সঞ্জয়জিকে কথা দিয়েছিলাম, এই গানটা মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আমি আর কোথাও গান গাইব না। আমি একেবারেই যাব না।”
এভাবেই এক শিল্পী আর এক স্রষ্টার বিশ্বাস, ধৈর্য আর প্রতিশ্রুতির বন্ধন জন্ম দিয়েছিল ‘দেবদাস’-এর সঙ্গীতকে, যা আজও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অম্লান।
বলিউডে হাতেখড়ির সময় শ্রেয়া নিছকই কিশোরী। স্মৃতির পাতা উল্টে তিনি বলেন, “আমি তখন মাত্র ১৬। আসলে সিদ্ধান্তটা আমি একা নিইনি, বাবা-ই নিয়েছিলেন। আমি তো পড়াশোনা করছি, নিজের কাজে ব্যস্ত আছি, কোথাও যাওয়ার কথাই ভাবছিলাম না। কিন্তু ওই সময়ে একের পর এক প্রস্তাব আসছিল, অথচ গানটা তখনও রিলিজ হয়নি। সহজেই ভেসে যাওয়া যেত। কিন্তু আমরা না বলেছি, নীতিতে অটল থেকেছি, ভেবেছি কোনটা সঠিক।”
‘দেবদাস’ মুক্তির আগে অসংখ্য প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শ্রেয়া। তিনি মনে করেন, সেই সিদ্ধান্তই তাঁর কেরিয়ারের ভীত শক্ত করেছিল। গায়িকার কথায়, “এটা কাজ করেছে। আমি নিশ্চিত, যদি সবার গান গেয়ে ফেলতাম, তাহলে ‘দেবদাস’-এ আমার জায়গা হত না। সঞ্জয়জি খুব স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ‘আমি তোমাকে লঞ্চ করব, কিন্তু তোমাকে ধৈর্য ধরতে হবে ছবির মুক্তি পর্যন্ত।‘”
আজ যখন ভন্সালি নতুন মেগা প্রজেক্ট ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ পরিচালনা করছেন, তখন শ্রেয়াও সমানভাবে আলোচনায় তাঁর সঙ্গীতজগতের কাজ নিয়ে।
ভন্সালি আর শ্রেয়ার জুটি যেন একেবারে যেন নিখুঁত যুগলবন্দি। ভন্সালি যেখানে ভিজ্যুয়াল আর আবেগ দিয়ে পর্দায় জাদু তৈরি করেন
, সেখানে শ্রেয়ার কণ্ঠ সেই জাদুকে আরও গভীর করে তোলে।
আজকের দিনে শ্রেয়া শুধু ভন্সালির ছবির গায়িকা নন—তিনি বলিউডের সফলতম কণ্ঠশিল্পীদের একজন। তাঁর গান দেশের বাইরেও একই রকম জনপ্রিয়।
তাই ভন্সালি-শ্রেয়ার কেমিস্ট্রি নিয়ে কথা উঠলেই মনে হয়—যখন প্রতিভা আর ধৈর্য মিলিত হয়, তখনই আসল ম্যাজিক তৈরি হয়।
