বাংলার বারো মাসের তেরো পার্বণের অন্যতম 'চড়ক'। এবার সেই উৎসবকে কেন্দ্র করেই ঘনাবে রহস্য! উঠে আসবে বাংলার এই জনপ্রিয় উৎসবের অজানা দিক।
শিলাদিত্য মৌলিকের আগামী ছবির নাম 'চড়ক: ফেয়ার অফ ফেথ'। সুদীপ্ত সেন ছবিটির প্রযোজনা করেছেন। কোন গল্প দেখা যাবে এই ছবিতে? পশ্চিমবঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রামকে ঘিরে তৈরি চড়ক একটি সাসপেন্স থ্রিলার, যা বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত এবং চড়ক উৎসবের তীব্র আচার-অনুষ্ঠানের ভিতরে দাঁড়িয়ে। রঙিন উৎসব, ভক্তি আর বহুদিনের প্রথার মাঝেও নীরবে জমতে থাকে এক অজানা অস্বস্তি। ছবিটি এগোয় কয়েকটি গ্রামের পরিবারের জড়ানো জীবন, এক শহুরে দম্পতির আগমন এবং বিশ্বাস, আশা ও সামাজিক চাপে চলা এক সমাজকে নিয়ে। উৎসব যত কাছে আসে, কিছু রহস্যময় ঘটনা গ্রামের শান্ত ছন্দকে নাড়া দেয়। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়, বিশ্বাস আর ভয় মানুষকে কত অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে। লোককথা, বাস্তবতা এবং মানসিক টানাপোড়েনের মিশেলে 'চড়ক' দেখায় ভক্তি আর অন্ধ আসক্তির মাঝের সূক্ষ্ম সীমা, প্রথা আর তার ফলের সম্পর্ক। আবহময়, আবেগভরা ও হালকা শিহরণ জাগানো এই চলচ্চিত্র এক সমাজের ছবি তুলে ধরে, যারা বিশ্বাস আর যুক্তির মোড়ে দাঁড়িয়ে। এখানে প্রতিটি আচার যেন কিছু বলতে চায়, আর প্রতিটি নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে একটি অজানা গল্প।

ছবিটির বিষয়ে পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিক বলেন, "চড়ক' আমার কাছে খুব ব্যক্তিগত একটি ছবি। এটিই আমার বাবার উপস্থাপনায় শেষ কাজ, কারণ তিনি আমাদের ছেড়ে গেছেন গত নভেম্বর মাসে। ছবিটার শুরু থেকে তিনি ভীষণ বিশ্বাস নিয়ে পাশে ছিলেন। আমার একটাই আক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত তিনি ছবিটা দেখে যেতে পারলেন না। আজ ছবির প্রতিটি ফ্রেমে আমি তাঁর অনুপস্থিতি টের পাই। এই চলচ্চিত্রটা তাঁর সাহস, ভরসা আর নীরব দিকনির্দেশনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা। এই ছবিটি আমার হিন্দি ভাষায় দ্বিতীয় কাজ। আমার প্রথম হিন্দি ছবি ছিল মিসেস স্কুটার। আবার হিন্দিতে ফেরা একদিকে কঠিন, আবার অন্যদিকে খুবই তৃপ্তির। প্রতিটি ছবি আমাকে কিছু না কিছু নতুন শেখায়। শুধু সিনেমা বানানোর কৌশল নয়, একজন গল্পকার হিসেবে নিজেকেও নতুন করে বুঝতে সাহায্য করে। 'চড়ক' বানানোর সময় আমার ইচ্ছে ছিল এমন একটা আবহ তৈরি করা, যাতে দর্শক শুধু গল্পটা দেখবেন না, বরং সেই জায়গাটাকে অনুভব করতে পারেন। আমি সবসময় মনে করি, সিনেমা তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয় যখন সেটা মানুষকে ভাবায় এবং কথা বলার সুযোগ করে দেয়। আশা করি এই ছবি দর্শকের সঙ্গে মানবিক আর আবেগের স্তরে একটা সত্যিকারের যোগ তৈরি করতে পারবে।"


এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করবেন সুব্রত দত্ত, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, দেবাশিস মণ্ডল, প্রসূন গায়েন, অঞ্জলি প্যাটিল, মহম্মদ সাহিদুর রহমান, প্রমুখ। ছবিটি সঞ্জয় হালদারের একটি ছবি গল্পকে ভিত্তি করে বানানো হয়েছে।
