'গুড্ডি'র রিল লাইফ জুটি প্রেম দিবসে রিয়েল লাইফ জুটিতে পরিণত হতে চলেছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন শ্যামৌপ্তি মুদলি এবং রণজয় বিষ্ণু। তাঁদের বিয়ের সকালে এদিন অভিনেত্রীর দু'টো বিয়ের সাজে ছবি পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানালেন পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ভাবছেন ব্যাপারটা কী! সাত সকালেই অভিনেত্রী বিয়ের সাজে কেন? 

আসলে শ্যামৌপ্তি মুদলি ছোটপর্দা এবং ওয়েব মাধ্যমে পর বড়পর্দায় পা রাখতে চলেছেন শীঘ্রই। কাজ করলেন উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউজ প্রযোজিত ছবি 'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড' ছবিতে। সেখানেই শ্যামৌপ্তি মুদলি বধূবেশে সেজেছিলেন চরিত্রের জন্য। আর সেই সাজই পরিচালক তাঁর বিয়ের দিন পোস্ট করলেন। 

ছবিতে অভিনেত্রীকে লাল বেনারসি, পুরনো দিনের ডিজাইনের টায়রা, টিকলি, গয়না, ওড়নায় দেখা যাচ্ছে। এই ছবি দু'টো পোস্ট করে এদিন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় লেখেন, 'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড সিনেমায় বড়পর্দায় প্রথমবারের জন্য অভিনয় করলেন শ্যামৌপ্তি মুদলি। প্রথম অভিনয়ে শ্যামৌপ্তি সব কলাকুশলীর মন জয় করেছেন। আমার বিশ্বাস তার অভিনয় আপনাদেরও কাছে সমাদৃত হবে। আজ শ্যামৌপ্তির বিয়ের দিন। বড়পর্দায় কনে বেশে তার ছবি আপনাদের সাথে ভাগ করে নিলাম।' তিনি এদিন রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলিকে বিয়ের শুভেচ্ছাও জানান। 

এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, সম্প্রতি শ্যামৌপ্তি আজকাল ডট ইনের কাছে তাঁর বিয়ের পরিকল্পনা ভাগ করে নিয়েছিলেন। বিয়েতে কেমন সাজবে, সেই বিষয়ে বলেছিলেন, "আমরা দু'জনেই মিনিমালিস্ট জিনিসপত্র পছন্দ করি। একদম বেশি সাজগোছ পছন্দ করি না। স্টাইলিং মানে আমাদের কাছে কমফোর্ট জোন। সেক্ষেত্রে আমরা খুবই মিনামিলিস্ট সাজার চেষ্টা করব। আমাকে যেন আমার মতো দেখতে লাগে আর রণজয়কে যেন ওর মতোই লাগে। বিভিন্ন কাজের সূত্রে আমরা এত বড় বউ সেজেছি....। সেখানে চরিত্রদের মতো দেখতে লেগেছে। ফলে বিয়ের দিন যেন আমাদের আমাদের মতোই লাগে সেটা চেষ্টা করব।" কথায় কথায় পর্দার 'গুড্ডি' জানান, দক্ষিণ কলকাতার একটি ব্যাঙ্কোয়েটে বসবে বিয়ের বাসর। কিন্তু আধুনিক যুগের ট্রেন্ড মেনে তাঁরা মোটেই প্রি-ওয়েডিং করবেন না।

অনস্ক্রিনে প্রেম থেকে বাস্তবে বিষয়টা কবে গড়াল? কিছুটা থেমে শ্যামৌপ্তি বলেন, "প্রেম যে কবে শুরু হল সেটা বলা কঠিন। আমরা একে অপরকে হয়তো সেভাবে ঠিক করে 'আই লাভ ইউ' বলিনি। আমাদের প্রথম প্রেমের শুরুটা হয়েছিল কবিতা লিখে লিখে। আমাদের প্রেম অনেক পরে হয়েছে। আগে আমাদের চেনা পরিচিতি, তারপর বন্ধুত্ব। অনেক পর প্রেম। তারপর সেটা প্রেম এবং ভালবাসার পরিণতির দিকে এগিয়েছি। মানুষের চেনা পরিচিতির পিরিয়ডে প্রেম বা ভালবাসার সম্পর্কে হানিমুন ফেজ চলে, সেখানে আমাদের আমাদের সম্পর্ক প্রথম দিকের ফেজটা আর চার-পাঁচটা সম্পর্কের থেকে আলাদা। অনেকটা কঠিন ছিল। একে অন্যের অনেক খারাপ সময়ের সাক্ষী থেকেছি। সেই থেকেই আমাদের মধ্যে একটা কমফোর্ট জোন তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে আমরা একটা সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছি যে আমরা একটা সম্পর্কে গিয়ে বিয়ে অবধি আসতে পেরেছি। খারাপ সময় কিন্তু মানুষকে চেনা যায়। বোঝা যায় তুমি তার সঙ্গে কতটা কমফোর্টেবল, বা সে তোমার জন্য কতটা থাকবে।"