কন্যাসন্তানের আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার অন্যতম ভরসার নাম ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’ (এসএসওয়াই)। সরকারি গ্যারান্টি, আকর্ষণীয় সুদ ও কর-ছাড়ের সুবিধা, এই তিন কারণে দেশজুড়ে অভিভাবকদের কাছে প্রকল্পটি জনপ্রিয়।
2
11
অ্যাকাউন্টের মেয়াদ ২১ বছর। কিন্তু জীবনে হঠাৎ প্রয়োজন হলে, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা বা অন্য কোনও বিপর্যয় সামাল দিতে হলে মেয়াদ শেষের আগেই কি টাকা তোলা সম্ভব? উত্তর হল, হ্যাঁ, তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে টাকা তুলতে পারবেন।
3
11
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কন্যার ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত কোনও টাকা তোলা যায় না। ১৮ বছর পূর্ণ হলে আংশিক টাকা তোলা সম্ভব।
4
11
তবে আগের আর্থিক বছরের শেষে জমা থাকা ব্যালেন্সের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। এই অর্থ একলপ্তে বা কিস্তিতে তোলা যায়, মূলত উচ্চশিক্ষার খরচ মেটানোর জন্য।
5
11
কয়েকটি বিশেষ পরিস্থিতিতে ২১ বছরের আগেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা যায়। কন্যার ১৮ বছর পেরোনোর পর বিয়ে যদি হয়, বিয়ের এক মাস আগে বা তিন মাসের মধ্যে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে সম্পূর্ণ টাকা তোলা যায়।
6
11
দুর্ভাগ্যবশত অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যু হলে সুদ-সহ সম্পূর্ণ অর্থ অভিভাবকের হাতে চলে যায়।
7
11
গুরুতর চিকিৎসা-সংকট, অভিভাবকের মৃত্যু বা চরম আর্থিক দুরবস্থার মতো মানবিক পরিস্থিতিতেও যথাযথ তথ্য যাচাইয়ের পর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার অনুমতি মেলে।
8
11
যে ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেখানে গিয়ে নির্ধারিত টাকা তোলার ফর্ম পূরণ করতে হয়।
9
11
জমা দিতে হয় কন্যার বয়সের প্রমাণ, ভর্তির চিঠি বা ফি-র রসিদের মতো শিক্ষাসংক্রান্ত নথি। যাচাই সম্পূর্ণ হলে অনুমোদিত অর্থ কন্যা বা অভিভাবকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়।
10
11
দীর্ঘ লক-ইন পিরিয়ড থাকার পরেও এই প্রকল্পটি জনপ্রিয়। কারণ সরকারি নিরাপত্তা, সুদের হার বেশি, করহীন আয় এবং ‘ইইই’ করছাড়ের মর্যাদা।
11
11
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ — এসএসওয়াইকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার হাতিয়ার হিসেবেই দেখা উচিত। ঘন ঘন টাকার প্রয়োজন হলে পাশাপাশি আলাদা জরুরি তহবিল রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।