উত্তর কলকাতার এই বনেদি বাড়ির দালানে সব সময় লেগেই থাকে হইচই। বাড়ির নাম সংকীর্তন। বাঙাল বাড়ির মেয়ে ঘটি বাড়ির বউ হয়ে আসায় একপ্রকার তাণ্ডব চলছে অন্দরমহলে! শাশুড়ি নয়, বউমার সঙ্গে আদায়-কাঁচকলায় শ্বশুরমশাই! কী হচ্ছে বাড়ির ভিতর? জানতে আজকাল ডট ইন পৌঁছে গিয়েছিল স্টার জলসার ধারাবাহিক 'সংসারের সংকীর্তন'-এর শুটিং ফ্লোরে, ভারত লক্ষ্মী স্টুডিওতে।
কর্তার বনেদিয়ানা
সেটের দরজা দিয়ে ঢুকতেই যেন মনে হল কোনও এক বনেদি বাড়ির দালান। বনেদি বাড়ির ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন বাড়ির কর্তা। কিন্তু আপাতত তিনি দুপুরের খাবার খেয়ে ভাতঘুমে ব্যস্ত। খানিকক্ষণ অপেক্ষা করতেই সাদা ধুতি ও পাঞ্জাবি পরে মেকআপ রুম থেকে বেরিয়ে এলেন অভিনেতা শুভাশিস মুখোপাধ্যায় ওরফে পর্দার 'বংশী'। এই ধারাবাহিকের হাত ধরে বহুদিন পর ছোটপর্দায় ফেরা। ইতিমধ্যেই দর্শক মহলের চর্চায় আছে তাঁর অভিনীত এই 'বংশী' চরিত্রটি। কীসের টানে আবার ছোটপর্দায় ফিরলেন?
তাঁর কথায়, "এখনকার নিয়ম অনুযায়ী ১৪ ঘণ্টা নয়, আমি ১২ ঘণ্টা শুটিং করি। আসলে কাজটা বড্ড ভালবাসি, তাই এত হিসেব কষে চলি না। এই ধারাবাহিকে অনেকের সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। শুধুমাত্র পরানদার সঙ্গে বহু কাজ করেছি। আসলে গল্পটার মধ্যে একটা উত্তর কলকাতার টান আছে। আমার যে পরিবারকে পর্দায় দেখানো হচ্ছে, সেটা উত্তর কলকাতার একটা পরিবার। আমি নিজেও নর্থের ছেলে। তাই যেন আরও বেশি করে আপন হয়ে উঠেছে গল্পটা।"
শুভাশিস আরও বলেন, "আসলে এখন আর যৌথ পরিবার কোথায়? দেখাই তো যায় না। শহুরে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির আধিক্য বেশি। আগেকার দিনে যেমন পারিবারিক ছবির জনপ্রিয়তা ছিল, ধারাবাহিকের ক্ষেত্রেও কিন্তু তেমনই। পারিবারিক গল্পে চরিত্রদের বিশ্লেষণ খুব ভালভাবে হয়, তাই দর্শকের নজর কাড়ে। এই ধারাবাহিকে কাজ করার জন্য এটা একটা চূড়ান্ত কারণ বলতে পারি।"
তাঁর কথায়, "তাছাড়া এখন সাংসারিক কূটকচালি, শাশুড়ি-বউমার চিরাচরিত দ্বন্দ্ব নিয়েই এগোয় গল্প। কিন্তু এই ধারাবাহিকে পুরো উল্টো। আমার তো মনে পড়ে না কোথাও শ্বশুর-বউমার দ্বন্দ্ব নিয়ে গল্প তৈরি হয়েছে বলে। এখানকার কাজের পরিবেশও খুব ভাল। আমায় বিশ্রামের সময় দেয় ওরা, যদি কোনও দরকারি কাজ থাকে সেটা করতেও ছাড় পাই। সব মিলিয়ে খুব যত্ন করে বলতে পারি।"
বাবার ভয়ে জড়সড়
সংসারের কর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই ফ্লোরে দেখা মিলল নতুন জুটির। মানালি মনীষা দে ও সব্যসাচী চৌধুরী, ওরফে 'শান্তিলতা' ও 'জয়ন্ত'। দু'জনেই খুব ব্যস্ত, কারণ ফ্লোরে যাওয়ার তাড়া। তার মাঝেই বাঙাল-ঘটি নিয়ে চর্চা শুরু। মানালি জানান, তিনি বাঙাল বাড়ির মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করলেও আসলে এপার বাংলার তিনি। অন্যদিকে, সব্যসাচী আবার দুই বাংলারই। অভিনেতা কথায়, "আমায় বাটি বলা ভাল। দুই বাংলার গুণই আছে।" ধারাবাহিকে তো বাবার দাপটে রোম্যান্সটাই হচ্ছে না, অভিনয় করতে গিয়ে ছোটবেলায় বাবার বকুনির কথা মনে পড়ে? সব্যসাচী জোরে হেসে বলেন, "আমি আর বাবা দু'জনেই মায়ের বকুনি খেতাম। তাই আলাদা করে বাবা আমায় বকেনি। কিন্তু মায়ের কোনও বাউন্ডারি ছিল না। মারধর যা খেয়েছি, আর কী বলব!" সব্যসাচীর কথায় হেসে ওঠেন মানালিও। জানান, তিনি বরাবরই শান্ত ছিলেন, তাই এসবের অভিজ্ঞতা একদম নেই। মানালির কথায়, "একটা জিনিস খেয়াল করেছেন? গল্পে শ্বশুর-বউমার যে দ্বন্দ্ব চলছে তার মধ্যেও কিন্তু আমরা দু'জন দু'জনকে বিপদ থেকে আগলে রাখছি। নিজেদের মধ্যে যাই থাকুক না কেন, বাইরের কেউ কিছু বলতে এলে দু'জনেই প্রতিবাদ করছি। খুব মিষ্টি ব্যাপার। তাই বোধহয় আমাদের গল্পটা একটু আলাদা।" মানালির কথার রেশ টেনে সব্যসাচী বলেন, "আসলে মানুষকে কাঁদানো খুব সহজ। হাসানো বড্ড কঠিন। আর এই দায়িত্বটা চ্যানেল, প্রযোজনা সংস্থা ক্যামেলিয়া আমাদের কাঁধে দিয়েছেন। খুব চেষ্টা করছি।"
আড্ডার মাঝে হালকা ছন্দপতন। ব্রেক শেষ, ডাক এল ফ্লোর থেকে। নতুন উদ্যমে আবার কাজ শুরু।















