চিকিৎসকরা বলছেন, ত্বকের সুস্বাস্থ্য লুকিয়ে আপনার অন্ত্রে (gut)। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর নাম ‘গাট-স্কিন অ্যাক্সিস’— পেট ও ত্বকের মধ্যে এক নিবিড় যোগাযোগ।
3
12
কী এই ‘গাট-স্কিন অ্যাক্সিস’?
আমাদের অন্ত্রে বাস করে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অণুজীব— যাকে ‘গাট মাইক্রোবায়োম’ বলে। এরা হজম, ভিটামিন তৈরি, রোগপ্রতিরোধ ও প্রদাহ-নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
4
12
শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ রোগ প্রতিরোধ হয় অন্ত্রের মাধ্যমে৷ অন্ত্র অসুস্থ হলে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ তৈরি করে— যা ব্রণ, ফোলাভাব ও দ্রুত বার্ধক্যের সরাসরি কারণ।
5
12
ত্বকের জন্য জরুরি ভিটামিন A, C, E, জিঙ্ক ও ওমেগা-৩— সবই অন্ত্রে শোষিত হয়। অন্ত্র দুর্বল হলে শোষণক্ষমতা কমে যায় তখন ত্বক ফ্যাকাশে-শুষ্ক দেখায়৷
6
12
অন্ত্রের আস্তরণ ছিদ্রযুক্ত হয়ে গেলে অপাচিত খাবার ও বিষাক্ত উপাদান রক্তে মিশে যায়— ফলে ত্বকে অ্যালার্জি, একজিমা, লালচে দাগ হয়।
7
12
অন্ত্র স্ট্রেস হরমোন ও সেক্স হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই ভারসাম্য নষ্ট হলেই হরমোন-জনিত ব্রণ হয়৷
8
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন না অন্ত্রের ভেতরের পরিবেশ ঠিক হবে, ততদিন বাইরে যত দামি প্রোডাক্ট দিন না কেন— সাময়িক স্বস্তি ছাড়া কিছু মিলবে না।”
9
12
চিবুক ও চোয়ালের চারপাশে দীর্ঘস্থায়ী ব্রণ, খাবার খাওয়ার পর ত্বক লালচে হয়ে যাওয়া, একসঙ্গে গ্যাস-বদহজম হলে বুঝবেন ত্বকের যাবতীয় সমস্যার মূলে অন্ত্রের দুর্বলতা৷
10
12
এই সময় প্রোবায়োটিকযুক্ত খাবার খান৷ টক দই খেতে পারেন৷ এছাড়া কিমচি, সাওয়ারক্রাউট, কম্বুচা— এসব দিয়ে অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া যোগ হয়। প্রিবায়োটিক যুক্ত খাবার রসুন, পেঁয়াজ, কলা, ওটস খেতে পারেন। তাজা ফল, শাকসবজি, ডাল খাবেন। প্রতিদিন ২.৫-৩ লিটার জল খেতেই হবে৷
11
12
চিনি, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, রিফাইন্ড ময়দা এগুলি অন্ত্রের ক্ষতি করে৷ এসব এড়িয়ে চলুন৷
ধ্যান, যোগব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, অন্ত্রকে ভাল রাখে৷
12
12
বাঙালির পাতে দই, ভাতের সঙ্গে শাক, পান্তা, আচার— এসব ছিল প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক। আজকের প্রজন্মে প্রক্রিয়াজাত খাবার বেড়ে যাওয়ায় অন্ত্রের-সমস্যা ও ত্বক-সমস্যা— দুই বেড়েছে৷ ক্রিম সাময়িক চাকচিক্য দেয়, ভিতর থেকে ত্বককে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল কর জরুরি৷