বলিউডের প্রবীণ অভিনেত্রী ও রাজ্যসভার সাংসদ জয়া বচ্চনের সঙ্গে পাপারাজ্জিদের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। তবে অমিতাভ-পত্নীর সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে সেই পুরনো দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে এসে পড়েছে, তবে এবার আরও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে। পাপারাজ্জি সংস্কৃতি নিয়ে জয়ার খোলাখুলি বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে। আর এবার পাপারাজ্জিদের তরফেও এল পাল্টা জবাব।
মুম্বইয়ের এক প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়া বচ্চন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিকতার প্রতি তাঁর পূর্ণ শ্রদ্ধা থাকলেও পাপারাজ্জিদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কার্যত ‘শূন্য’। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে তারকাদের পিছু নেওয়া এই ফটোগ্রাফাররা আদৌ প্রশিক্ষিত বা যোগ্য কি না, এবং তাঁরা কীভাবে মিডিয়ার প্রতিনিধি হতে পারেন। তাঁর আরও বক্তব্য ছিল, এরা কারা? এরা কি এই দেশের মানুষের প্রতিনিধি হওয়ার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত? আপনারা এদের মিডিয়া বলেন? আমার বাবা সাংবাদিক ছিলেন, আমি সেই মানুষদের সম্মান করি।” তিনি আরও যোগ করেন, “কিন্তু বাইরে যারা টাইট, নোংরা প্যান্ট পরে মোবাইল হাতে দাঁড়িয়ে থাকে—এরা ভাবে মোবাইল আছে বলে যে কারও ছবি তুলবে, যা খুশি বলবে। এদের মন্তব্য শোনেন? কী ধরনের মানুষ এরা? কোথা থেকে আসে, কী ব্যাকগ্রাউন্ড? শুধু ইউটিউব বা সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে পারলেই কি এরা আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবে?”
জয়ার এই মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয় এবং গোপনীয়তা, ভদ্রতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে বহুদিনের বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে আসে।
এই মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম জনপ্রিয় পাপারাজ্জি বরিন্দর চাওলা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বরিন্দর বলেন, জয়ার এই বক্তব্যে তাঁর টিম গভীরভাবে আহত। “আমার কর্মীদের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্যে আমরা সবাই খুব কষ্ট পেয়েছি। মত প্রকাশের অনেক পথ আছে, কিন্তু এই ভাষা বা ভঙ্গি ঠিক নয়,” বলেন তিনি।
বরিন্দর আরও জানান, বহু তারকা কীভাবে ভদ্রতার সঙ্গে নিজেদের সীমারেখা টেনেছেন। তাঁর কথায়, “আলিয়া ভাট ও রণবীর কাপুর, রণবীর সিং ও দীপিকা পাডুকোন, অনুষ্কা শর্মা ও বিরাট কোহলি...এঁরা সবাই আমাদের ডেকে চা খাইয়েছেন এবং খুব শান্তভাবে অনুরোধ করেছেন যেন তাঁদের সন্তানদের ছবি তোলা না হয়। আজ পর্যন্ত আমরা সেই সব অনুরোধ সম্মানের জানিয়ে এসেছি।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক ফটোগ্রাফারের মধ্যেই আলোচনা হয়েছে, জয়া জি যদি আমাদের ছবি তুলতে না চান, তাহলে আমরা ভদ্রভাবে জানিয়ে দিতে পারি যে আমরা আর তাঁকে ক্লিক করব না। এটা কোনও বয়কট নয়। আমাদের ছেলেরা কখনও তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেনি। বরাবর ‘জয়াজি’ বলেই সম্বোধন করেছে। কেন তিনি সবসময় এত বিরক্ত থাকেন, তা ঈশ্বরই জানেন, তবে এটা নতুন কিছু নয়।”
তারকাখচিত অনুষ্ঠানে ছবি তোলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বরিন্দর। তাঁর বক্তব্য, “প্রতিটি অনুষ্ঠানে রেড কার্পেট আর ব্যাক এন্ট্রি, দুটোই থাকে। যদি ছবি তুলতে না চান, তাহলে নীরবে ব্যাক এন্ট্রি নিন। পিআর টিম বা আয়োজকেরা সহজেই সাহায্য করতে পারে। কিন্তু ইচ্ছে করে রেড কার্পেটে হাঁটবেন, আবার সেখানেই দৃশ্য তৈরি করবেন, এটা তো যুক্তিযুক্ত নয়।”
জয়া বচ্চনের এক মন্তব্যে ফটোগ্রাফারদের পোশাক নিয়েও আপত্তি ওঠে। সেই প্রসঙ্গে বরিন্দর বলেন, “জয়া জির বাড়িতেও ইউনিফর্ম পরা কর্মীরা আছেন। কিন্তু তাঁদের আর্থিক অবস্থা বা ব্যক্তিগত লড়াই কে জানে? এই ধরনের মন্তব্য শুধু ফটোগ্রাফারদের নয়, স্পট বয়-সহ ইন্ডাস্ট্রির বহু সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে সাধারণ মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিফলিত হয়।”
উল্লেখ্য, এক সাক্ষাৎকারে জয়া বচ্চন বলেছিলেন, বাইরে ঘোরাফেরা করা মোবাইলধারী ফটোগ্রাফারদের শিক্ষা, ব্যাকগ্রাউন্ড ও আচরণ নিয়েই তাঁর প্রশ্ন। সেই মন্তব্যই এবার ফের একবার পাপারাজ্জি বনাম তারকা -এই চিরাচরিত বিতর্ককেই নতুন করে উসকে দিয়েছিল যার আঁচ উত্তরোত্তর বাড়ছে।
