নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলা চলচ্চিত্র জগতের 'হাসির রাজা' তিনি। আজও পর্দায় যাঁর অভিনয় দেখলে চোখ ফেরাতে পারে না আট থেকে আশি। তিনি অভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর জীবনের টুকরো কিছু মুহূর্ত থেকে শুরু করে তাঁকে আরও একবার নতুন করে দর্শকের কাছে পরিচিত করে তোলার দায়িত্ব নিয়েছেন পরিচালক কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়। তাঁর পরিচালিত ছবি 'যমালয়ে জীবন্ত ভানু'। নামভূমিকায় শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। ভানুপত্নী ‘নীলিমা দেবী’র চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবলীনা দত্ত। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরিত্রে বড়পর্দায় অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন দর্শক। তবে জানেন কি শাশ্বতকে 'শুয়োরের বাচ্চা' বলে ডাকতেন ভানু! একথা আর কেউ নয়, জানালেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় স্বয়ং। 

 

সম্প্রতি, এক সাক্ষাৎকারে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় জানালেন তাঁর বাবা তথা প্রয়াত অভিনেতা প্রয়াত অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব কাছের মানুষ ছিলেন। শুভেন্দুকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন ভানু। আদর করে ডাকতেন 'শুয়োর' বলে। শাস্বতর কথায়, "বাবাকে কোনওদিনও নাম ধরে ডাকতে শুনিনি ভানুজেঠুকে। ওই বাঙাল টানে 'শুয়ার' বলে ডাকতেন বাবাকে। আর স্বাভাবিকভাবেই আমি হয়ে যেতাম শুয়ারের বাচ্চা। একটা ঘটনা বলি। যখন আমার ভাই জন্মাল, আমরা তখন নার্সিংহোমে। দোতলায় দাঁড়িয়ে রয়েছি। এমন সময় নীচ থেকে হইচই ভেসে এল। শুনলাম বাঁজখাই গলায় নার্সিংহোমের কর্মচারীদের ভানু জেঠু জিজ্ঞেস করছেন, 'কই, শুয়ারের বাচ্চাটা কই?' শোনামাত্রই ডাক্তার-নার্সরা ছোটাছুটি করে তাঁকে পথ দেখিয়ে আমাদের কাছে নিয়ে এল।" বলে বলতে হেসে ফেললেন 'কল্কি ২৮৯৮ এডি' ছবিখ্যাত এই অভিনেতা। 

 

"তাঁর বাবা প্রয়াত অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় ভানুবাবুর যেহেতু খুব কাছের মানুষ ছিলেন তাই অনেক ছোট থেকেই শাশ্বতদা ভানুবাবুকে দেখেছেন। এটাও আরও একটি কারণ ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরিত্রে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় নেওয়া", বলেছিলেন পরিচালক কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়। 
প্রসঙ্গত, ১৯৫৮ সালে ভানু বন্দোপাধ্যায়ের ছবি ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ মুক্তি পেয়েছিল। সেই ছবির কথা আজও লোকের মুখে মুখে। ওই ছবির পরিচালক ছিলেন প্রফুল্ল চক্রবর্তী। সেই ছবির নাম ধার করেই রাখা হয়েছে এই ছবির নাম। ভানুপত্নী ‘নীলিমা দেবী’র চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবলীনা দত্ত।