সলমন খানের 'মাতৃভূমি' ছবিটা নিয়ে টিনসেল টাউনে ফের শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি জানা গিয়েছে, ভারত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বা মিনিস্ট্রি অফ ডিফেন্সের আপত্তির মুখে ছবিটির চিত্রনাট্যে বড়সড় রদবদল করতে বাধ্য হচ্ছেন নির্মাতারা। বিশেষ করে ছবিতে প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিবেশী দেশ চীন-এর নাম উল্লেখ করার বিষয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মন্ত্রক।

গল্পের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ভারতীয় সেনাবাহিনীর বীরত্ব এবং সীমান্ত সংঘাতের কাহিনী বড়পর্দায় ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল সলমন খানের এই ছবিতে। তবে সূত্রের খবর, ছবির চিত্রনাট্য খতিয়ে দেখার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে সরাসরি কোনও দেশের নাম নেওয়া যাবে না। বিশেষ করে চীনের নাম ব্যবহার করলে তা কূটনৈতিক স্তরে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা।

এই আপত্তির ফলে চিত্রনাট্যকারদের এখন নতুন করে কলম ধরতে হয়েছে। জানা যাচ্ছে, সরাসরি 'চীন' নামটির বদলে কোনও কাল্পনিক নাম বা রূপক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেন্সর বোর্ডের গাইডলাইন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই কড়া অবস্থানের কারণে ছবির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য নতুন করে শুট করার সম্ভাবনাও দেখা দিচ্ছে। এতে ছবির বাজেট এবং মুক্তির সময়, দুইয়ের ওপরেই প্রভাব পড়তে পারে। তবে আগামী বছর ঈদেই মুক্তি পাওয়ার কথা এই ছবির।

মুম্বই সংবাদমাধ্যমকে এক ঘনিষ্ঠ সূত্র বলেছেন, “সিনেমাটি প্রথমে একটি বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুরোধে সলমন খান ও পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া গল্পটিতে একটি কাল্পনিক মোড় যোগ করেন এবং বেশ কিছু দৃশ্য পুনরায় শুট করেন। গল্পের প্রয়োজনে প্রায় ৪০ শতাংশ নতুন দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে রোমান্টিক দৃশ্য এবং চরিত্রের ব্যকগ্রাউন্ড স্টোরি যুক্ত করা হয়েছে। নির্মাতারা সিনেমার এই নতুন সংস্করণটি জমা দিয়ে আশা করেছিলেন যে এবার হয়তো তারা অনাপত্তি পত্র (এনওসি) পেয়ে যাবেন। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এখনও বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছে না এবং তাদের কিছু সংশয় রয়েই গিয়েছে।”

সলমন খান এবং তাঁর প্রোডাকশন হাউস অবশ্য এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে চলচ্চিত্র মহলের একাংশের মতে, দেশপ্রেম এবং বাস্তব সংঘাতের কাহিনী দেখাতে গিয়ে এই ধরণের আইনি বা প্রশাসনিক বাধা নতুন কিছু নয়। এর আগেও বলিউডে বহু যুদ্ধভিত্তিক ছবির ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ছাড়পত্র পেতে কাঠ-খড় পোড়াতে হয়েছে নির্মাতাদের।