সমাজমাধ্যমে পর্ণালী ধর চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন শ্রীলেখা৷ অনীক দত্তর বন্ধু বলেই পরিচয় দেন পর্ণালী৷ কর্মসূত্রে থাকেন জোহানেসবার্গে। কোভিডের সময় পর্ণালীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় অনীক দত্তর৷ আলাপচারিতা থেকে পারিবারিক বন্ধুত্ব৷ পর্ণালীর মেয়ের হাতেখড়িও দিয়েছেন প্রয়াত পরিচালক৷ যত কাণ্ড কলকাতাতেই অনীক দত্তর শেষ ছবি, এই ছবির প্রিমিয়ারেও দেখা গিয়েছিল পর্ণালীকে৷ 

অনীক দত্তকে নিয়ে গতবছর বই লিখতে শুরু করেছেন এমনটাই জানিয়েছেন পর্ণালী৷ সেই বইয়ের নামও প্রয়াত পরিচালক দিয়েছিলেন টুকরো টুকরো ফ্ল্যাশব্যাক। সেই বই লেখা এখনও শেষ হয়নি৷ পরিচালকের মৃত্যুর পর বিজ্ঞানী বন্ধু 'বইটা লিখব অনীকদা' এমন মন্তব্য করতেই রাগে ফেটে পড়লেন শ্রীলেখা মিত্র৷ 

অনীক দত্তর মানসিক অবস্থার অবনতির নেপথ্যে পর্ণালীকে দায়ী করলেন শ্রীলেখা৷ যদিও একা শ্রীলেখা নয়, পরমা ব্যানার্জিও সমাজমাধ্যমে চাঁচাছোলা ভাষায় পর্ণালীকে আক্রমণ করেছেন৷ পরমা পর্ণালীকে 'ন্যাকা এবং ফেক' বলেছেন৷ অনীক দত্তর পরিচিতিকে ব্যবহার করেছেন নিজের স্বার্থে এমন অভিযোগ করেছেন৷ পরমার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন শ্রীলেখা৷ শ্রীলেখা লিখেছেন, 

"চোখে পড়েছিল আগেই, কিন্তু উপেক্ষা করতে পারলাম না।
পরমা ঠিকই লিখেছেন। এই বিজ্ঞানী—নাকি কী যেন—মহিলা, অনীকদার জীবনের শেষ পর্বে বন্ধুত্বের ভাব দেখিয়ে সেলিব্রিটি মহলে পরিচিতি তৈরি করেছেন। এখন আবার নাকি অনীকদাকে নিয়ে বই লিখবেন!
পর্ণালী, আপনি অনীকদার সঙ্গে ঘুরে-ফিরে পরিচিতি ও যোগাযোগ তৈরি করেছিলেন। তারপর যখন প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল, তখন তাঁকে ব্লকও করেছিলেন—এ কথা অনেকেই জানেন। আজ হঠাৎ তাঁর প্রতি এত দরদ কেন? আপনিও তাঁর মানসিক ক্ষতির কারণ হয়েছিলেন, সেই দায় কি স্বীকার করবেন?
আর আপনি অনীকদার সম্পর্কে কতটুকুই বা জানেন যে তাঁর জীবনী লিখতে বসেছেন?
আমাদের জীবনে এমন অনেক মানুষ আসেন, যারা আমাদের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেন—নিজেদের যোগাযোগ, সুযোগ-সুবিধা ও স্বার্থসিদ্ধির জন্য। এরা এক ধরনের পরজীবী (parasite)।
পুনশ্চ: তুতুলদিকে না জেনে ট্রোল করা বন্ধ করুন। অনীকদার মতো বড় মাপের, কিন্তু শিশুসুলভ মানুষটিকে সামলে রেখেছিলেন বলেই অনীকদা এত কাজ করতে পেরেছিলেন।" 

[ অভিনেত্রী শ্রীলেখার বক্তব্য অপরিবর্তিত] 

অনীক দত্তর প্রাক্তন স্ত্রীকে দায়ী করার জন্যও শ্রীলেখা প্রতিবাদ করেছেন৷ শ্রীলেখার মতে অনীক দত্তর সৃজনশীল কাজ করার এবং ব্যক্তি অনীক দত্তর শিশুসুলভ মনকে সামলানোর নেপথ্যে শক্ত খুঁটি ছিলেন প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি৷