‘উনিশে এপ্রিল’, ‘চোখের বালি’, ‘দোসর’, ‘উৎসব’, ‘খেলা’ —একের পর এক ছবিতে তিনিই নায়ক। টলিউডের ‘জেষ্ঠ্যপুত্র’ প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির ছবির ঋতুবদল ঘটেছিল ঋতুপর্ণ ঘোষের হাত ধরেই। তবে তাঁদের সম্পর্ক শুধু পরিচালক এবং অভিনেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, ছিল এক বন্ধুত্বের অটুট বন্ধন। ১৩ বছর আগে সেই প্রিয় বন্ধুকে হারিয়েছেন প্রসেনজিৎ। যে শূন্যতা আজও মেনে নিতে পারেননি নায়ক। শনিবার পরিচালকের প্রয়াণ দিবসে সেই শূন্যতা আরও একবার অনুভব করলেন বাংলা ছবির ‘ইন্ডাস্ট্রি’।
আজ ৩০ মে ঋতুপর্ণ ঘোষের মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁকে স্মরণ করে আবেগঘন পোস্ট করেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। এদিন ফেসবুকে তাঁদের একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “আজও মনে হয়, হঠাৎ ফোন করে বলবি— ‘বুম্বা, একটা গল্প আছে।’ ভালো থাকিস, ঋতু।” ছোট্ট এই বার্তাতেই ফুটে উঠেছে প্রিয় বন্ধুকে হারানোর কষ্ট এবং এক গভীর সম্পর্কের স্মৃতি।
ঋতুপর্ণ ঘোষ ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্ক ছিল বাংলা সিনেমার অন্যতম সফল জুটি হিসেবে পরিচিত। পরিচালক হিসেবে ঋতুপর্ণ যেমন নতুন ধরনের গল্প বলতেন, তেমনই অভিনেতা হিসেবে প্রসেনজিৎ তাঁর ভাবনাকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতেন। তাঁদের একসঙ্গে কাজ করা বহু ছবি আজও দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
‘বুম্বা’ নামেই অভিনেতাকে ডাকতেন ঋতুপর্ণ। তাই তাঁর পোস্টের সেই একটি লাইন, “বুম্বা, একটা গল্প আছে”, শুধু যেন স্মৃতি নয়, বরং দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর অসংখ্য মুহূর্তের প্রতীক। নতুন কোনও ছবির পরিকল্পনা বা গল্পের ভাবনা এলেই ঋতুপর্ণ ফোন করতেন প্রসেনজিৎকে। সেই দিনগুলোর কথাই আজ আরও একবার পরিচালকের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে। প্রসেনজিতের এই পোস্ট দেখে অনুরাগীরাও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবির দৃশ্য, সংলাপ এবং স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন।
২০১৩ সালের ৩০ মে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে প্রয়াত হন ঋতুপর্ণ ঘোষ। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। তাঁর চলে যাওয়া আজও মেনে নিতে পারেননি টলিউডের কলাকুশলীরা। ভুলতে পারেননি সাধারণ মানুষও। সময়ের সঙ্গে মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের কাজ থেকে যায়। ঋতুপর্ণ ঘোষও তেমনই একজন শিল্পী, যিনি তাঁর সিনেমা ও গল্পের মাধ্যমে আজও বেঁচে আছেন কোটি কোটি মানুষের মনে।















