ক্যানসার এমন একটি রোগ যা প্রাথমিক অবস্থায় খুব মৃদু বা সাধারণ কিছু লক্ষণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বেশিরভাগই এই লক্ষণগুলোকে দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি, বয়স বেড়ে যাওয়া কিংবা সাধারণ মানসিক চাপ মনে করে এড়িয়ে যান।
2
12
চিকিৎসকদের মতে, এই ছোটখাটো অবহেলাই পরবর্তীতে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে শরীরে ১০টি ‘নীরব’ লক্ষণ নজরে এলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
3
12
১. কোনও কারণ ছাড়াই হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া: আপনি ডায়েট করছেন না, খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসও একই রকম রয়েছে, অথচ হঠাৎ করেই শরীর থেকে বেশ কয়েক কেজি ওজন কমে যাচ্ছে? চিকিৎসকদের মতে, এটি অগ্ন্যাশয় পাকস্থলী, খাদ্যনালী বা ফুসফুসের ক্যানসারের একটি বড় প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। ক্যানসার কোষগুলো যখন শরীরে ছড়াতে শুরু করে, তখন তারা শরীরের সমস্ত শক্তি ও পুষ্টি শোষণ করে নেয়, ফলে দ্রুত ওজন কমতে থাকে।
4
12
২. অতিরিক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি: কাজের পরে ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক এবং একটু বিশ্রাম বা ভাল ঘুমালেই তা ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু যদি এমন হয় যে, পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও আপনার শরীরের ক্লান্তি ও অবসাদ কাটছেই না, তবে তা চিন্তার বিষয়।লিউকেমিয়া (ব্লাড ক্যানসার) বা কোলন ক্যানসারের ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরে ভেতরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। ফলে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দেখা দেয়, যা রোগীকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে ফেলে।
5
12
৩. টানা কাশি বা গলার আওয়াজ বদলে যাওয়া: ঋতু পরিবর্তনের কারণে বা ঠাণ্ডা লেগে কাশি হওয়া সাধারণ বিষয়। কিন্তু সেই কাশি যদি তিন থেকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে এবং কোনও ওষুধেই না কমে, তবে সাবধান হওয়া উচিত। বিশেষ করে কাশির সঙ্গে যদি কখনো রক্ত দেখা যায় বা গলার আওয়াজ হঠাৎ কর্কশ বা ফিসফিসে হয়ে যায়, তবে তা ফুসফুস, থাইরয়েড বা ল্যারিন্স (স্বরযন্ত্র)-এর ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
6
12
৪. ত্বকের রং বা তিলের আকৃতিতে পরিবর্তন: আমাদের শরীরে তিল বা আঁচিল থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি দেখেন কোনও পুরনো তিলের আকার হঠাৎ বড় হচ্ছে, সেটির রং বদলে যাচ্ছে, চারপাশটা অসমান হয়ে যাচ্ছে কিংবা সেখান থেকে রক্ত বা পুঁজ বেরচ্ছে, তবে তা ‘মেলানোমা’ বা এক ধরণের মারাত্মক স্কিন ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া ত্বকে কোনও ক্ষত বা ঘা যদি দীর্ঘদিনের চিকিৎসাতেও না শুকায়, তবে তা অবহেলা করা উচিত নয়।
7
12
৫. মলত্যাগের অভ্যাসে হঠাৎ বড় পরিবর্তন: হঠাৎ করে যদি মলত্যাগের স্বাভাবিক নিয়মে স্থায়ী বদল আসে, যেমন একটানা অনেকদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকা, কিংবা ক্রমাগত ডায়রিয়া হওয়া, তবে সতর্ক হন। অনেকেই মলের সঙ্গে রক্ত পড়লে তাকে পাইলস বা অর্শ ভেবে ভুল করেন এবং সাধারণ গ্যাসের ওষুধ খেয়ে চেপে রাখেন। এটি কোলন বা মলাশয়ের ক্যানসারের অন্যতম উপসর্গ হতে পারে।
8
12
৬. খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া:খাবার খাওয়ার সময় কিংবা কেবল থুতু গেলার সময়ও যদি গলায় কোনও অস্বস্তি, ব্যথা বা খাবার আটকে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়, তবে তা সাধারণ ইনফেকশন নাও হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই সমস্যা চলতে থাকলে তা খাদ্যনালী, গলা বা পাকস্থলীর ক্যানসারের ইঙ্গিত দেয়।
9
12
৭. শরীরে যে কোনও জায়গায় চাকা বা পিণ্ড দেখা দেওয়া: স্তন, গলা, কুচকি কিংবা শরীরের যে কোনঈ অংশে যদি হঠাৎ কোনও শক্ত পিণ্ড বা চাকা অনুভব করেন, তবে অবহেলা করবেন না। ক্যানসারের টিউমার বা পিণ্ডগুলো সাধারণত ব্যথাহীন হয়, তাই মানুষ এগুলোকে সহজে পাত্তাই দেয় না। বিশেষ করে মহিনাদের ক্ষেত্রে স্তনে কোনও চাকা বা চামড়া কুঁচকে যাওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দিলে অবিলম্বে ম্যামোগ্রাফি করানো দরকার।
10
12
৮. অস্বাভাবিক রক্তপাত হওয়া: শরীরের যে কোনও অকারণে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ ক্যানসারের একটি বড় অ্যালার্ম। যেমন কাশির সঙ্গে রক্ত আসা (ফুসফুসের ক্যানসার), প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া (কিডনি বা মূত্রাশয়ের ক্যানসার), কিংবা মলদ্বার দিয়ে রক্ত বের হওয়া। এছাড়া মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজ বা পিরিয়ড স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও যদি আবার যোনিপথে রক্তপাত শুরু হয়, তবে তা জরায়ু বা সারভিক্যাল ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
11
12
৯. দীর্ঘদিনের স্থায়ী ব্যথা: শরীরের কোনও অংশে, যেমন পিঠে, কোমরে, পেটে বা হাড়ে যদি একটানা ব্যথা থাকে এবং কোনও পেইনকিলার বা থেরাপিতেও তা না কমে, তবে তা চিন্তার কারণ। অনেক সময় ক্যানসার যখন শরীরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিশেষ করে হাড়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তখন এমন তীব্র ও স্থায়ী ব্যথার হয়।
12
12
১০. ঘন ঘন জ্বর আসা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া: ক্যানসার যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আক্রমণ করে, তখন মানুষ খুব সহজেই বিভিন্ন ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়। কোনও কারণ ছাড়াই প্রায়ই হালকা বা মাঝারি জ্বর আসা, রাতে শরীর ঘেমে যাওয়া- লিম্ফোমা বা লিউকেমিয়ার মতো ব্লাড ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। কারণ এই রোগে শরীরে সুস্থ শ্বেতকণিকা তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।