সলমন খান এবং পাপারাৎজিদেরদের মধ্যে সম্পর্ক বরাবরই বেশ চর্চায় থাকে। কখনও হাসিমুখে পোজ দেন অভিনেতা, আবার কখনও ক্যামেরার ফ্ল্যাশ এবং অতিউৎসাহ দেখে মেজাজ হারাতেও দেখা যায় তাঁকে। সম্প্রতি মুম্বইয়ের এক হাসপাতালের বাইরে ঠিক এমনই নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল বিনোদন দুনিয়া। হাসপাতাল চত্বরে পাপারাৎজিদের ব্যস্ততা দেখে রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি নায়ক। শুধু মেজাজ হারানোই নয়, হাসপাতালের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার জন্য রীতিমতো কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বলিউডের ভাইজান।

ঠিক কী ঘটেছিল? আসলে সলমন তাঁর কোনও ব্যক্তিগত কারণে বা পরিচিত কারও খোঁজ নিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যখন হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছিলেন, তখনই ঘটে বিপত্তি। অভিনেতাকে দেখা মাত্রই ছবি আর ভিডিও তোলার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন পাপারাৎজিরা। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর চ্যাঁচামেচিতে হাসপাতালের গেটের সামনে রীতিমতো জটলা তৈরি হয়ে যায়।

হাসপাতালের মতো জায়গায় যেখানে শান্ত পরিবেশ থাকা দরকার, সেখানে এই ধরণের বিশৃঙ্খলা একেবারেই পছন্দ হয়নি সলমনের। গাড়িতে ওঠার আগে তিনি ছবিশিকারীদের দিকে তাকিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাঁদের শান্ত হতে বলেন। অভিনেতা পরিষ্কার বুঝিয়ে দেন, এটা কোনও সিনেমার প্রমোশন বা পার্টি নয় যে এখানে এসে এভাবে হট্টগোল করতে হবে।

ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়নি। শোনা যাচ্ছে, হাসপাতাল চত্বরের এই ঘটনার পর সলমনের টিমের পক্ষ থেকে পাপারাৎজিদের একটি কড়া সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে সাফ বলা হয়েছে, তারকাদের ছবি তোলা পেশা হতে পারে, কিন্তু হাসপাতাল বা শেষকৃত্যের মতো সংবেদনশীল জায়গায় একটি নির্দিষ্ট সীমা বজায় রাখা উচিত। ভবিষ্যতে যদি কোনও হাসপাতালের বাইরে সলমন খানকে ঘিরে এই ধরণের বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ভাইজানের এই পদক্ষেপে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন ভক্তরা। সমাজমাধ্যমে সকলে জানিয়েছেন, হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। 

খুব শীঘ্রই সলমনকে ‘মাতৃভূমি’ সিনেমায় দেখা যেতে চলেছে। তবে শোনা যাচ্ছে এই প্রজেক্টে বড়সড় রদবদল করা হচ্ছে। গত মার্চ মাস পর্যন্ত এই সিনেমার নাম ছিল ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’। গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যকার বাস্তব সংঘর্ষের ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমাটি তৈরি হচ্ছিল। তবে এখন এই প্রজেক্টটি একেবারে নতুন একটি মোড় নিয়েছে। সিনেমার নাম পরিবর্তন করার পাশাপাশি এর গল্প থেকে চিন এবং গালওয়ান উপত্যকার সমস্ত প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সিনেমাটির বেশ কিছু অংশের বড়সড় পুনর্নির্মাণ বা নতুন করে শুটিং করার কাজ চলছে। সিনেমাটি কবে মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।