গত ২০শে মার্চ বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেলেও ভারতে রায়ান গসলিং অভিনীত ‘প্রজেক্ট হেল মেরি’ মুক্তি পেয়েছে ২৬শে মার্চ। কিন্তু মুক্তির প্রথম দিনেই ভারতীয় দর্শকদের জন্য ছিল চরম হতাশা। যেখানে গোটা দেশজুড়ে ৩৪টি আইম্যাক্স থিয়েটার রয়েছে, সেখানে মাত্র ৫টি স্ক্রিনে জায়গা পেয়েছিল এই সায়েন্স ফিকশন। কারণ? বক্স অফিসে জাঁকিয়ে বসে থাকা আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর ২’।


অ্যান্ডি উইয়ারের বেস্টসেলার উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই ছবিটি মূলত আইম্যাক্স ক্যামেরায় শুট করা হয়েছে। ফলে সাধারণ স্ক্রিনের চেয়ে বড় পর্দায় এর অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। কিন্তু ভারতে ‘ধুরন্ধর ২’ ইতিমধ্যেই ৬৭৫ কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলায় হল মালিকরা হলিউডি এই ছবিকে জায়গা দিতে নারাজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার সারাদিনে মাত্র ১৩টি শো পাওয়ায় সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দেন অনুরাগীরা। একজনের কথায়, “মাসের পর মাস অপেক্ষা করার পর এমন অদ্ভুত শিডিউল মেনে নেওয়া যায় না।”


অবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পিভিআর আইনক্স ঘোষণা করে যে, শুক্রবার থেকে শো-এর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। ৫ থেকে বাড়িয়ে একধাক্কায় ৬০টিরও বেশি শো দেওয়া হয়েছে ভারতে! ঘোষণা হওয়ার দু-ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ টিকিট শেষ! এক নেটিজেন ইউজার রসিকতা করে লিখেছেন, “রবিবার আইম্যাক্স ৭০ মিমি-র একদম সামনের সারিতে সিট পেয়েছি। সিনেমা শেষ হতে হতে মনে হয় আমি নিজেও মহাকাশে পৌঁছে যাব!”

 

 

?ref_src=twsrc%5Etfw">March 27, 2026

 

ফিল লর্ড এবং ক্রিস্টোফার মিলারের পরিচালনায় এই ছবিতে রায়ান গোসলিংকে দেখা গেছে রাইল্যান্ড গ্রেসের চরিত্রে, যিনি স্মৃতি হারিয়ে একটি মহাকাশযানে জেগে ওঠেন। ছবিতে সান্দ্রা হুলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন। বক্স অফিসে ‘ধুরন্ধর ২’-এর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে এই ছবি কতটা জমি পায়, এখন সেটাই দেখার।

 

 

 

প্রসঙ্গত, রায়ান গসলিং তাঁর ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ছবির প্রচারে ভার্চুয়ালি মুখোমুখি হয়েছিলেন বলিউডের ‘গ্রিক গড’ হৃতিক রোশন। আর তাঁদের সেই আড্ডাতেই উঠে এল কল্পবিজ্ঞান এবং হলিউড ও বলিউডের ছবিতে ভিনগ্রহের প্রাণীদের সঙ্গে মানুষের গভীর বন্ধুত্ব নিয়ে নিজেদের সিনেমার কথা। হৃতিক এবং রায়ান—দু’জনেই পর্দায় ভিনগ্রহের প্রাণীদের সঙ্গে বন্ধুত্বের স্বাদ পেয়েছেন। হৃতিকের আছে সেই আইকনিক ‘জাদু’ (কোই...মিল গয়া), আর রায়ানের এই ছবিতে সঙ্গী হয়েছে ‘রকি’। হৃতিক রসিকতা করে বলেন, “আমরা সম্ভবত একমাত্র দুই অভিনেতা যাদের এলিয়েনদের সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব আছে। তোমার রকি আছে, আর আমার আছে জাদু।” হৃতিকের মুখে জাদুর কথা শুনে রায়ানও বেশ উৎসাহ প্রকাশ করেন এবং দু’জনে মিলে একটি ‘এক্সক্লুসিভ স্পেস এলিয়েন ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব’ তৈরির পরিকল্পনাও করে ফেলেন।আড্ডার এক পর্যায়ে রায়ান গসলিং হৃতিককে পরামর্শ দেন ‘কোই... মিল গয়া’ রিমেক করার জন্য। পাল্টা হৃতিকও রায়ানের ছবি নিয়ে একই ইচ্ছেপ্রকাশ করেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল যখন রায়ান একটি ‘শেয়ারড ইউনিভার্স’ বা সিক্যুয়ালের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। যেখানে হয়তো জাদু এবং রকি দুজনেই একসাথে পর্দায় ধরা দিতে পারে!

 

 

&t=2069s