বলিউডের চিরসবুজ রোমান্টিক জুটি বলতে দর্শকের চোখে আজও ঋষি কাপুর এবং নীতু কাপুরের মুখ ভেসে ওঠে। কিন্তু রূপালি পর্দার এই রূপকথার আড়ালেও লুকিয়ে ছিল কিছু অম্লমধুর এবং বিতর্কিত স্মৃতি। সম্প্রতি একটি পুরনো ঘটনা নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে পর্দার রসায়ন কীভাবে এক সময় ঋষি-নীতুর সুখের সংসারে ভাঙন ধরাতে বসেছিল।
ঘটনাটি নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকের। ঋষি কাপুর তখন অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়ার সঙ্গে ‘সাগর’ ছবিতে অভিনয় করছিলেন। 'ববি'র পর দীর্ঘ বিরতির কাটিয়ে এই জুটির কামব্যাক নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু সেই ছবির একটি বোল্ড দৃশ্য বা ঘনিষ্ঠ চুম্বন দৃশ্য নিয়ে নীতু কাপুরের মনে নাকি অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
শোনা যায়, ঋষি কাপুর এই দৃশ্যটির কথা নীতুর কাছে আগে গোপন রেখেছিলেন। যখন নীতু বিষয়টি জানতে পারেন, তখন তিনি এতটাই ক্ষুব্ধ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছিলেন যে তাঁদের দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছেছিল।
নীতুর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি ছিল, সেই সময় ডিম্পল কাপাডিয়ার সঙ্গে ঋষির পুরনো রসায়ন নীতুকে মানসিকভাবে অস্থির করে তুলেছিল। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে নীতু কাপুর বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি অনুভব করেছিলেন, পেশাদারিত্বের নামে ঋষি কাপুর হয়তো ব্যক্তিগত সীমানা অতিক্রম করছেন। এমনকী সেই সময় মিডিয়াতেও তাঁদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঋষি কাপুর নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং নীতুকে আশ্বস্ত করেন। নীতুও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সম্পর্ককে আরও একটি সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত ভালবাসা জয়ী হলেও, ডিম্পল কাপাডিয়ার সঙ্গে ঋষির সেই ‘বোল্ড’ দৃশ্যটি কাপুর পরিবারের ইতিহাসের পাতায় একটি অস্বস্তিকর অধ্যায় হিসেবেই থেকে গিয়েছে।
ঋষি কাপুর তাঁর বইয়ে এই পরিস্থিতি নিয়ে লিখেছিলেন, 'ওর দুশ্চিন্তা করার কোনও কারণ ছিল না। ডিম্পল আমার বন্ধু ছিল। যদিও ‘ববি’ সিনেমার সময় আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বের চেয়ে একটু বেশিই ছিল, কিন্তু তারপর দশটি বছর পার হয়ে গিয়েছিল। ও তখন বৈবাহিক জীবন থেকে বেরিয়ে এসে নিজের দুই সন্তানকে নিয়ে থাকছিল, আর আমিও আমার দুই সন্তানকে নিয়ে থিতু হয়েছিলাম। আমরা তখন শুধুমাত্র কাজের দিকেই মনোনিবেশ করেছিলাম।'
















