দীর্ঘদিন ধরে রিয়া চক্রবর্তীর নাম শিরোনামে এসেছে এমন সব কারণে, যা তাঁর কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। ২০২০ সালের জুনে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর প্রবল সমালোচনা, আইনি লড়াই ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন অভিনেত্রী। সেই পর্ব তাঁকে অনেকটা সময়ের জন্য পর্দার বাইরে রাখে। প্রায় সাত বছর পর এক সাক্ষাৎকারে রিয়া ফিরে তাকালেন সেই অধ্যায়ের দিকে। এবং বললেন এমন এক অনুভূতির কথা, যা তিনি কখনও ভুলতে চাননি। ভালবাসা।

খুব শীঘ্রই পরিচালক হংসল মেহতার একটি ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে অভিনয়ে ফিরছেন রিয়া। তবে ক্যামেরার সামনে ফেরার আগে তাঁকে মানসিকভাবে মেনে নিতে হয়েছিল যে তাঁর অভিনয়জীবন হয়তো শেষ হয়ে গিয়েছে। রিয়া বলেন, “অভিনয়ের স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়া সহজ ছিল না। প্রায় এক দশক ধরে যেটার জন্য আমি পরিশ্রম করেছি, সেটাকে বিদায় জানাতে থেরাপির অনেকগুলো সেশন লেগেছে। যখন কাজ পাওয়া বন্ধ হয়ে গেল, তখন নিজেকে বোঝাতে হয়েছিল, এই স্বপ্ন আর আমার নয়।”

রিয়া জানান, শুরুতে এই প্রোজেক্টটি ফিরিয়েও দিয়েছিলেন। নায়িকার কথায়, “আজ মনে হয়, হ্যাঁ বলাটাই ঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। সাত বছরে জীবনে অনেক কিছু বদলে গেছে। আবার সেটে ফেরা যেন সাইকেল চালানোর মতো। একবার শিখলে আর ভুলে যাওয়া যায় না।”

কাজের বাইরে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রিয়া। বিশেষ করে সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে, যখন অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তখন কয়েকজন বান্ধবী তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। রিয়ার কথায়, “আমার বান্ধবীরা আমাকে সত্যিকারের বন্ধুত্বের মানে বুঝিয়েছে। কোনও কারণ ছাড়াই ভালোবাসা পাওয়া, এমনকি নিজের জীবন আর জীবিকার ঝুঁকি নিয়েও পাশে থাকা, এটা অসাধারণ।” গায়িকা-অভিনেত্রী শিবানি দণ্ডেকরকে তিনি ‘বোনের মতো’ বলেও উল্লেখ করেন।

রিয়া জানান, প্রকাশ্যে তাঁকে সমর্থন করার কারণে শিবানি বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট হারিয়েছিলেন। যা তিনি অনেক পরে জানতে পারেন। অভিনেত্রীর কথায়, “আমার জীবনে এমন নারীরা আছেন বলে আমি কৃতজ্ঞ, যারা একে অপরকে তুলে ধরেন। একদিকে আমি মানুষের সবচেয়ে খারাপ দিক দেখেছি, অন্য দিকে মানবতার সবচেয়ে সুন্দর রূপও চাক্ষুষ করেছি।”

এত তিক্ত সব অভিজ্ঞতার পরেও নিজের আবেগকে বাঁচিয়ে রেখেছেন রিয়া। তিনি বলেন, “থেরাপি আমার জীবন বাঁচিয়েছে। আমি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, জীবন যেদিকেই নিয়ে যাক, আমি কখনও কঠোর বা নিরাশ হয়ে যাব না। আমি এখনও ভালবাসায় বিশ্বাস করি। ভালবাসা সুন্দর, শক্তিশালী, আর শেষ পর্যন্ত ভালবাসাই সব কিছুর উত্তর।”