একটা নতুন টোস্টার! তার জন্য ঠিক কতদূর যেতে পারে কেউ?  বিশেষত সে যদি হয় হাড়কিপ্টে গোত্রীয়? জানতে হলে দেখে ফেলতে পারেন ‘টোস্টার’। নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তি পাওয়া রাজকুমার রাও, সানিয়া মালহোত্রার এই নতুন ছবিতে দিব্যি মিলেমিশে গিয়েছে ডার্ক কমেডি, মার্ডার মিস্ট্রির বুনোট। 

গল্পে পারফিউমের দোকানি রমাকান্ত (রাজকুমার) যাকে বলে ১০০ শতাংশ কৃপণ। ফোনের বিল খুঁটিয়ে দেখে ছ’টাকা বাড়তি বিলের টাকা ফেরত পেতে সে ছশো বার ফোন করতেও রাজি। ব্রেকফাস্টের টাকা বাঁচাতে যখনতখন সে হানা দিতে পারে প্রতিবেশী বৃদ্ধার বাড়িতে। এ সব সুযোগসুবিধার খোঁজে স্ত্রীর হাজার আপত্তি সত্ত্বেও সে জীবন কাটায় এমন এক আবাসনে, যেখানে সিংহভাগ বাসিন্দাই প্রবীণ। স্বামীর এমন কাণ্ডকারখানায় নাজেহাল স্ত্রী শিল্পা (সানিয়া)। এহেন রমাকান্ত বাধ্য হয় স্ত্রীর গুরুজির মেয়ের বিয়েতে পাঁচ হাজারি টোস্টার উপহার দিতে। বিয়ে বাতিল হয়েছে খবর পেয়ে তাই সে পৌঁছে যায় উপহার ফেরত নিতে। ততক্ষণে তারা বিয়েতে পাওয়া সব উপহার দান করে দিয়েছে এক অনাথাশ্রমে। নাছোড় রমাকান্ত সেখানে গিয়েও পৌঁছয়। এমনকী যে দোকান থেকে সে টোস্টার কেনা হয়েছিল, তাদের সঙ্গেও কথা বলে রাখে ফেরতের ব্যাপারে। এদিকে, অনাথাশ্রমের কর্ত্রী (ফারহা খান) টোস্টার দিতে নারাজ। অগত্যা রাতের অন্ধকারে সেখান থেকে টোস্টার চুরি করে এনে প্রতিবেশী বৃদ্ধার বাড়িতে রেখে দেয় রমাকান্ত।

শেষমেশ কি সেই টোস্টার সে দোকানে পৌঁছে পাঁচ হাজার টাকা ফেরত পেতে সফল হবে? নাকি চুরির হাত ধরে জড়িয়ে পড়বে আরও বড় ঝামেলা-ঝঞ্ঝাটের জালে? রমাকান্তের কীর্তি কি ফাঁস হয়ে যাবে শিল্পার কাছেও? সে সব নিয়েই এগিয়েছে গল্প। 

ডার্ক কমেডির স্বাদ সাধারণ কমেডির চেয়ে বেশ অন্য রকম। তাতে যদি মিশে যায় অপরাধের পর্দা ফাঁসের গল্প, সে গল্প আরও জোরদার হয়ে উঠবে, এমনটা আশা করাই যায়। কিন্তু এ গল্পের বুনোট ঠিক ততটাও যেন সুস্বাদু হয়ে উঠল না। প্রথম অর্ধে তবু কমেডির প্লটে, রাজকুমার-সানিয়া-ফারহাদের জমাটি অভিনয়ে দিব্যি এগোচ্ছিল গল্প। দ্বিতীয়ার্ধে পৌঁছে রমাকান্তের আবাসনের বাসিন্দা এক বৃদ্ধা, মিসেস ফেরওয়ানি-র (অর্চনাপূরণ সিং) যৌন আকাঙ্ক্ষাকে সাবপ্লট করতে গিয়ে কেমন যেন দলা পাকিয়ে গেল সবটা। দুর্বল চিত্রনাট্য ও বেমানান কিছু দৃশ্যের হাত ধরে আলগা হয়ে গেল ডার্ক কমেডি ও রহস্যের বুনোট। সব মিলিয়ে অন্য স্বাদের উপভোগ্য ছবি হয়ে ওঠার মতো সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও খানিকটা পোড়া টোস্টের মতোই বিস্বাদ হয়ে দাঁড়াল ‘টোস্টার’। 

তবু ছবিটা একবার দেখাই যায় তার অভিনয়ের কারণে। রাজকুমারের দুরন্ত কমেডি টাইমিংয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে রমাকান্ত। বিরক্তিকর কৃপণতার বহরেও কেমন যেন মায়া ছড়িয়ে থাকে। তবে চরিত্র বাছাইয়ে এবার বোধহয় রাজকুমারের একটু কৃপণ হওয়াই কাম্য। সানিয়াও যথারীতি দারুণ। গোয়েন্দাসুলভ কৌতূহল, স্বামীর প্রতি রাগ-অভিমান পেরিয়েও অটুট ভালবাসায় রমাকান্ত-শিল্পার রসায়ন মন ছুঁয়ে যায় দুই মুখ্যচরিত্রের হাত ধরেই। মালিনী ফেরওয়ানি হিসেবে অর্চনাও নিঃসন্দেহে জমাটি অভিনয় করেন। তবু তাতে বাধ সাধে চিত্রনাট্য বা দৃশ্যায়নের খামতি। ছোট্ট পরিসরে ফারহা কিংবা প্রতিবেশী গ্লেনের চরিত্রে অভিষেক ব্যানার্জি চোখ টেনেছেন নিজের মতো করেই। 

অভিনেতাদের হাত ধরেই বৈতরণী পার। সেটাই বোধহয় পাওনা হয়ে থেকে যাবে প্রথম বারের পরিচালক বিবেক দাশচৌধুরী এবং প্রযোজক পত্রলেখার।