বছর দুয়েকের বিরতির পর বড়পর্দায় ‘ধুরন্ধর’ ছবির মাধ্যমে ফিরছেন রণবীর সিং। তাঁর সঙ্গে ছবিতে রয়েছেন সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খান্না, আর.মাধবন, অর্জুন রামপাল, সারা অর্জুন ও রাকেশ বেদি। ইতিমধ্যেই এই ছবির নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এক বিরল রেকর্ড। আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ গত ১৭ বছরের মধ্যে বলিউডের সবচেয়ে দীর্ঘ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি হতে চলেছে! ফলে সব মিলিয়ে  ‘ধুরন্ধর’ ইতিমধ্যেই বছরের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রতীক্ষিত ছবিগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই ছবির রুক্ষতা, স্কেল আর বিস্ফোরক সব দৃশ্য নিয়ে দর্শকদের উত্তেজনা তুঙ্গে। এবার সেই আগুনে আরও ঘি ঢালল ছবির গল্প সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

 

সম্প্রতি, সেন্সর বোর্ডের তরফে ‘ধুরন্ধর’ ছবিকে দেওয়া হয়েছে ‘এ’ সার্টিফিকেট, অর্থাৎ শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যেই এই ছবি। আর সেটাই এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। কারণ এই শংসাপত্রেই উল্লেখ রয়েছে ছবির মূল প্লট, যা সরাসরি ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত।

 

সেন্সর বোর্ডের বিবরণ অনুযায়ী, ‘ধুরন্ধর’ নির্মিত হয়েছে ১৯৯৯ সালের আইসি-৮১৪ কান্দাহার হাইজ্যাক এবং ২০০১ সালের ভারতীয় সংসদে হামলা, এই দুই ঘটনার ছায়ায়। ছবির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান অজয় সান্যাল। পাকিস্তান থেকে পরিচালিত এক ভয়ঙ্কর জঙ্গি নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে তিনি তৈরি করেন এক দুঃসাহসিক ও প্রায় অসম্ভব গোয়েন্দা অভিযান।

 

এই উচ্চঝুঁকির মিশনে সান্যাল বেছে নেন একেবারে অপ্রত্যাশিত এক অস্ত্র-পাঞ্জাবের এক ২০ বছরের যুবক, যে প্রতিশোধস্পৃহা থেকে অপরাধ করে বন্দি হয়েছিল। ছেলেটির ভেতরের প্রচণ্ড রাগ, এই টগবগে কিন্তু ভয়ংকর শক্তিকে শনাক্ত করে সান্যাল তাকে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। লক্ষ্য একটাই, করাচির নির্মম আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়ার ভেতরে ঢুকে তাদের শিকড় উপড়ে ফেলা।

 

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া সিরিজ ‘আইসি ৮১৪: দ্য কান্দাহার হাইজ্যাক’-ও একই ঐতিহাসিক ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা বর্তমানে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিম করছে। সেই সিরিজে অভিনয় করেছিলেন বিজয় বর্মা, পত্রলেখা, পঙ্কজ কাপুর, দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য ও দিয়া মির্জা।

 

‘ধুরন্ধর’-এ  মুখ্যভূমিকায় রয়েছেন রণবীর সিং, তাঁর সঙ্গে আছেন সারা অর্জুন। ছবিটি নাকি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম রক্তাক্ত ছবি হতে চলেছে আর সেই সঙ্গে দর্শকরা প্রশংসা করছেন গল্পের হলিউড-স্তরের ভিজ্যুয়াল স্কেল। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল, অক্ষয় খান্না ও আর মাধবন, যা ছবির গাম্ভীর্য থেকে গভীরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে জোর আলোচনা, ‘ধুরন্ধর’ আসতে চলেছে দুই পর্বে। সূত্র বলছে, আগামী ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে প্রথম পর্ব, যা এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে শেষ হবে। দ্বিতীয় পর্ব মুক্তি পেতে পারে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে।

 

ইতিহাস, রাজনীতি, জঙ্গি হানা আর ব্যক্তিগত প্রতিশোধ। সব মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর’ শুধু একটি অ্যাকশন ছবি নয়, বরং ভারতের সাম্প্রতিক অতীতের অন্ধকার অধ্যায়ের সিনেম্যাটিক পুনর্নির্মাণ। আর সেটাই এখন সিনেমাপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রে।