কেরিয়ারে দীর্ঘদিনের ওঠানামার পর অবশেষে বক্স অফিসে নিজের জমি শক্ত করে দাঁড়ালেন রণবীর সিং। পরপর কয়েকটি ছবি প্রত্যাশামতো ব্যবসা না করায় তাঁর কেরিয়ার ঘিরে যে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছিল, তা কার্যত মুছে দিয়েছে আদিত্য ধর পরিচালিত অ্যাকশন ছবি ‘ধুরন্ধর’। মুক্তির পর থেকেই দুরন্ত গতিতে এগোনো এই ছবি শুধু ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি হিসেবেই উঠে আসেনি, বরং আজীবন আয়ের নিরিখে ছাপিয়ে গিয়েছে ‘স্ত্রী ২’, ‘ছাভা’, ‘পাঠান’ এবং ‘পুষ্পা ২’-এর মতো মেগা হিটকেও। বর্তমান ট্রেন্ড বলছে, এবার লক্ষ্য শাহরুখ খানের 'জওয়ান'।

 

এই সাফল্যের ফলে রণবীর সিংয়ের কেরিয়ার ঘিরে তৈরি হওয়া হাওয়াটাই বদলে গিয়েছে। আবারও তিনি জায়গা করে নিয়েছেন শাহরুখ-সলমন-আমির পরবর্তী প্রজন্মের হিন্দি ছবির তারকাদের প্রথম সারিতে, যেখানে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে দীর্ঘদিনের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ রণবীর কাপুরের। রণবীররের শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা পরিচালিত অ্যানিমাল বক্স অফিসে যে দাপট দেখিয়েছিল, তা এই তুলনাকে আরও উসকে দেয়।

 

রণবীর সিং বনাম রণবীর কাপুর, এই বিতর্ক নতুন নয়। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই তুলনায় ২০১০-এর দশকে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন রণবীর সিং। একের পর এক বক্স অফিস হিট দিলেও, সেই সময় ধারাবাহিকতা নিয়ে সমস্যায় ভুগছিলেন রণবীর কাপুর। তবে সেই সুবর্ণ সময়ে একটি সিদ্ধান্ত আজও রণবীর সিংয়ের কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় ‘হোয়াট ইফ’ প্রশ্ন হয়ে রয়ে গিয়েছে, ‘কবীর সিং’ হওয়ার সুযোগ ছেড়ে দেওয়া।

 

 

 

২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া 'কবীর সিং' হয়ে ওঠে শহিদ কাপুরের কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সাফল্য। বহু বিতর্ক সত্ত্বেও ছবিটির সাংস্কৃতিক প্রভাব আজও আলোচনায়। ২০২৩ সালে পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা প্রকাশ করেন, ‘অর্জুন রেড্ডি’-র সাফল্যের পর হিন্দি রিমেকের প্রস্তাব প্রথমে দেওয়া হয়েছিল রণবীর সিংকে। এক সাক্ষাৎকারে ভাঙ্গা জানান, “আমি ছবিটা রণবীরের সঙ্গেই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তখন চরিত্রটা তাঁর কাছে খুব ডার্ক মনে হয়েছিল, তাই তিনি না করেন।”

 

রণবীর সিং সরে দাঁড়ানোর পর ছবিটি যায় শহিদ কাপুরের কাছে। সেই সময় শহিদের বক্স অফিস ট্র্যাক রেকর্ড খুব একটা শক্তিশালী ছিল না। ইন্ডাস্ট্রির একাংশ সন্দিহান হলেও ভাঙ্গা নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। ফলাফল ইতিহাস। মাত্র ৩৬ কোটি টাকার বাজেটে তৈরি ছবি বিশ্বজুড়ে আয় করে প্রায় ৩৮০ কোটি টাকা।

 

 

পেছন ফিরে তাকালে স্পষ্ট, ‘কবীর সিং’ রণবীর সিংয়ের ঝুলিতে গেলে তাঁর বক্স অফিস আধিপত্য আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যেতে পারত। বাজিরাও মাস্তানি, পদ্মাবত, সিম্বা, গল্লি বয়-এর মতো হিটের পাশে এই ছবির সংযোজন তাঁকে শুধু রণবীর কাপুরের নয়, প্রায় সব সমসাময়িক অভিনেতার চেয়েই অনেকটা এগিয়ে রাখত।

 

সংখ্যার বাইরেও ‘কবীর সিং’ ছিল এমন এক চরিত্র, যা একজন অভিনেতার অভিনয় ক্ষমতার অন্য দিক তুলে ধরতে পারত। আজ ‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্যে রণবীর সিং আবার শীর্ষে ফিরলেও, তাঁর কেরিয়ারের পাতায় কবীর সিং চিরকালই থেকে যাবে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে।