বলিউডে বিতর্ক, প্রশংসা আর তীব্র মতামতের জন্য বরাবরই পরিচিত রাম গোপাল বর্মা এবার তিনি সরব হলেন আদিত্য ধর পরিচালিত বহুল আলোচিত ছবি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ নিয়ে। মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া কুড়োচ্ছে ছবিটি। আর সেই আবহেই এই সিক্যুয়েলকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন রাম গোপাল বর্মা।
সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে দীর্ঘ একটি পোস্টে তিনি ‘ধুরন্ধর ২’-কে আখ্যা দিয়েছেন “হরর” হিসেবে! তবে তা দর্শকের জন্য নয়, বরং সেইসব নির্মাতাদের জন্য, যাঁরা এতদিন অতিরঞ্জিত, চড়া মেজাজের এবং বাস্তবতা-বর্জিত সিনেমার উপর ভর করে নিজেদের কেরিয়ার গড়ে তুলেছেন। তাঁর মতে, এই ছবি সেই ধারার সিনেমাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।
একইসঙ্গে রণবীর সিং-এর অভিনয় নিয়েও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন তিনি। বর্মার কথায়, এই ছবিতে রণবীর প্রচলিত ‘বড়সড়’, না-হারা নায়কের ধারণা ভেঙে দিয়েছেন। বরং এমন এক চরিত্র তুলে ধরেছেন, যে রক্তাক্ত হয়, আঘাত পায়, দুর্বলতাও আছে কিন্তু তাতেই জনমানসে তার বাস্তবতা এবং বিপজ্জনক আকর্ষণ তৈরি হয়। এই নতুন ধরনের নায়কের সামনে পুরনো ‘দেবতুল্য’ নায়করা খুব শীঘ্রই অচল হয়ে পড়বে বলেও মত তাঁর।
অ্যাকশন দৃশ্য নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাম গোপাল বর্মা। তিনি উল্লেখ করেছেন, বহুদিন ধরেই এমন দৃশ্য দর্শকদের সামনে এসেছে, যেখানে চরিত্ররা অসম্ভব উচ্চতা থেকে পড়ে বেঁচে যায়, বিস্ফোরণের মধ্যেও অক্ষত থাকে, কিংবা পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে লড়াই চালায়। ‘ধুরন্ধর ২’ সেই ধারাকে ভেঙে বাস্তবের কাছাকাছি অ্যাকশন দেখিয়েছে বলেই দাবি তাঁর। এর ফলে দর্শকের রুচিতেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
পরিচালকের মতে, এই ছবি কেবল একটি সফল সিক্যুয়েল নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। গল্পের বদলে কৃত্রিম চাকচিক্য, চরিত্রের বদলে বাহ্যিক স্টাইল—এই প্রবণতা যদি বদলানো না যায়, তবে ভবিষ্যতে সেই সিনেমাগুলি দর্শকের কাছে প্রাসঙ্গিকতা হারাতে বাধ্য। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ‘ধুরন্ধর ২’ সেই পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
এর আগেও রামু এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে উচ্চ আসনে বসিয়েছিলেন। এমনকি ‘শোলে’ বা ‘মুঘল-এ-আজম’-এর মতো কালজয়ী ছবির সঙ্গে তুলনাও টেনেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক নির্মাতাদেরও এই ছবি দেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন মজার ছলেই।সব মিলিয়ে, আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ নিয়ে রাম গোপাল বর্মার এই প্রতিক্রিয়া শুধু প্রশংসা নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির চলতি ধারার বিরুদ্ধে এক তীব্র সমালোচনাও বটে। এখন দেখার, এই বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলে বলিউডের ভবিষ্যৎ ছবি তৈরির নির্মাণশৈলীতে।
