রাজপাল যাদবের পাঁচ কোটি টাকার ঋণ জরিমানা ও অন্যান্য খরচ যোগ হয়ে বর্তমানে প্রায় ন’কোটিতে পৌঁছেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চেক বাউন্স মামলায় তিনি ইতিমধ্যেই ২.৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে এই অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা প্রকাশ করতে চাননি তাঁর আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “কে রাজপাল যাদবকে টাকা দিয়েছেন, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। পাঁচ কোটির মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২.৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।”

মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৬ ফেব্রুয়ারি। আইনজীবী জানান, রাজপাল 
এবং এম/এস মুরালি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের মধ্যে এখনও আলোচনা চলছে। এদিকে দিল্লি হাই কোর্ট অভিনেতাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রেখেছে এবং তাঁর অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদনের শুনানি মুলতবি করেছে।

রাজপালের আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে তিনি সরাসরি জেলে গিয়ে তাঁর মক্কেলের সঙ্গে দেখা করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ নিতে পারেন। আইনজীবী বলেছেন, “আগের আন্ডারটেকিং নিয়ে আদালতের অবস্থান কী, তা বোঝার জন্য আমরা ব্যক্তিগতভাবে দেখা করব।” তিনি আরও দাবি করেন, বকেয়া অর্থ পরিশোধ হয়ে গেলে মামলাটি নিষ্পত্তির পথে যেতে পারে এবং মূল বিচারের প্রশ্ন আর নাও উঠতে পারে।

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২.৫ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের রেজিস্ট্রিতে আরও এক কোটি টাকা জমা রাখা হয়েছে। “আমরা চাই মামলাটি মূল বিষয়ের ভিত্তিতে শোনা হোক। সেই ভিত্তিতেই জামিনের আবেদন দাখিল করেছি এবং সোমবারের মধ্যে জবাব পাওয়ার আশা করছি,” বলেন আইনজীবী।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, রাজপাল কখনও অর্থ পরিশোধ করতে অস্বীকার করেননি। তাঁর দাবি, এক সময় অপর পক্ষ অর্থ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল, যা অর্ডার শিটে উল্লেখ রয়েছে। পরে বিষয়টি দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাঁরা কারাদণ্ডের আবেদন করেন।

বলিউডের একাধিক তারকা, যেমন সলমন খান বা সোনু সুদের আর্থিক সহায়তার প্রসঙ্গে তোলা হলে রাজপালের আইনজীবী তা এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়। তাঁর মন্তব্য, “অনেকে সাহায্য করছেন, সমর্থন দিচ্ছেন।”

রাজপালের আত্মসমর্পণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে সমর্থন জানানো হচ্ছে। সোনু প্রকাশ্যে অভিনেতাকে সাহায্যের প্রস্তাব দেন। রাজপালের স্ত্রী ও ম্যানেজার রাধা জানান, সলমন ও অজয় দেবগণের মতো তারকারাও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।