আবারও বড়পর্দায় ফিরছে বাঙালির প্রিয় অভিযাত্রী ‘কাকাবাবু’। রহস্য আর রোমাঞ্চের নতুন জাল বুনতে প্রস্তুত তিনি। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই চরিত্রে ফের প্রাণ সঞ্চারের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। নতুন ছবির নাম ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ঘোষণাই করলেন নির্মাতারা।
কয়েক দিন আগেই মুক্তি পেয়েছে ‘বিজয়নগরের হীরে’। সেখানে কাকাবাবুর ভূমিকায় প্রসেনজিতের অভিনয় দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়েছে। বক্স অফিসেও ছবিটি সাফল্য পেয়েছে। সেই ছবির পরিচালক চন্দ্রাশিস রায়ই এবারও পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন। অর্থাৎ সফল জুটিই ফের একসঙ্গে নতুন অভিযানে পা বাড়াচ্ছে।
প্রসেনজিতের কথায়, ‘বিজয়নগরের হীরে’ মুক্তির পর থেকেই দর্শকরা আরও একবার কাকাবাবুকে বড়পর্দায় দেখতে চেয়েছেন। তাঁদের সেই ভালবাসা ফিরিয়ে দিতেই আসছে ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’। সব ঠিক থাকলে ২০২৭ সালে মুক্তি পাবে ছবিটি। ইতিমধ্যেই নতুন অভিযানের অপেক্ষায় দিন গুনতে শুরু করেছেন অনুরাগীরা।
কাকাবাবু হিসাবে প্রসেনজিতের বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরেই। তাঁর পরিচালনায় এই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির তিনটি ছবি উপহার দিয়েছিলেন অভিনেতা, যা দর্শকমহলে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। পরবর্তীতে পরিচালনার দায়িত্ব নেন চন্দ্রাশিস। আর সেই ধারাবাহিকতাতেই এগিয়ে চলেছে কাকাবাবুর নতুন অধ্যায়। সময়ের সঙ্গে এই চরিত্রে প্রসেনজিতের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। অভিনয় দক্ষতায় তিনি কাকাবাবুকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন, যা সব প্রজন্মের দর্শকের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
প্রসেনজিতের কথায়, “বিজয়নগরের হীরের সময় আমরা যখন হল ভিজিট করি, সকলেই জিজ্ঞাসা করেছিলেন পরের কাকাবাবু কবে আসবে? তাই আমাদের মনে হল দর্শকদের এটা উপহার দেওয়া উচিত। আমরা দর্শকের সামনে বলতে চেয়েছি যে, তাঁরা যা চাইছেন, আমরা তা-ই নিয়ে আসছি ২০২৭-এ।”
আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, শিশুদের কাছে তাঁর তারকাখ্যাতির পরিচয়ের চেয়েও ‘কাকাবাবু’ নামটাই বেশি আপন। তাদের চোখে পর্দা আর বাস্তবের মধ্যে কোনও আলাদা সীমারেখা নেই। নতুন ছবি ঘোষণার পর তিনি বললেন, “যে বাচ্চারা প্রসেনজিৎকে চেনে না বা বুম্বাদাকে চেনে না, তাদের কাছে আমি কাকাবাবু হিসাবে পরিচিত। একজন শিল্পীর জীবনে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি কিছু হয় না। বাংলা ছবিতে আমার এমন কিছু চরিত্র আছে, যেগুলোর নাম ধরে মানুষ আজও আমায় ডাকেন। অবশ্যই সেগুলির মধ্যে প্রবীর রায়চৌধুরী বা লালন খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে কাকাবাবু হিসাবে বাচ্চারা আমায় গ্রহণ করেছে, এটা আমার কাছে একটা বড় পাওনা।”
