২০১৮ সালে একটি চেক বাউন্স মামলায় দিল্লির তিলক মার্গ থানায় অভিনেতা রাজপাল যাদবের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ ছিল, ২০১০ সালে ছবি পরিচালনার জন্য পাঁচ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তিনি, যা সুদে-আসলে প্রায় ন'কোটিতে গিয়ে দাঁড়ায়। সেই টাকা ফেরত দিতে না পারায় আদালত তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়। তিহার জেলে কাটানো সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রাজপাল জানান, সেখানে তিনি কোনও বিশেষ সুবিধা পাননি। একজন সাধারণ কয়েদির মতোই তাঁকে থাকতে হয়েছিল।

সম্প্রতি, ফারহা খানের শো-এ দেখা গিয়েছে রাজপালকে। সেখানে রাজপাল জানান, জেলে তাঁকে কোনও কঠোর শারীরিক পরিশ্রম বা 'ডিউটি' করতে হয়নি, তবে তিনি সেখানে সৃজনশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন। জেলের ভিতর যে নাটক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হত, সেখানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন।

রাজপাল যাদব তাঁর জেলজীবন প্রসঙ্গে বলেন, “পরিস্থিতি খুব একটা চরমে পৌঁছায়নি ঠিকই, তবে সেখানে অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে থাকতে হত এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই শাস্তি ভোগ করতে হত।” ফারাহ খান যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করেন যে, জেলে যাওয়ার বিষয়ে তাঁর মনে কোনও তিক্ততা আছে কি না, জবাবে অভিনেতা বলেন, “আমি সব পরিস্থিতিতেই মানিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকা শিখে গিয়েছি।”

বিপদের দিনে যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আর্থিকভাবে সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রাজপাল। তিনি যখন তিহার জেলে ছিলেন, অভিনেতা সোনু সুদ প্রথম সারির ব্যক্তি হিসেবে তাঁর সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন। সোনু সেই সময় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন তাঁরা রাজপালকে সামান্য টাকা অগ্রিম পারিশ্রমিক দিয়ে সিনেমাতে সই করান। এতে করে রাজপাল তাঁর দেনা মিটিয়ে জেল থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
সোনু সুদের এই আহ্বানের পর আরও অনেকেই এগিয়ে আসেন। খবর অনুযায়ী, সলমন খান, পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান এবং প্রিয়দর্শন-এর মতো ব্যক্তিত্বরাও সেই কঠিন সময়ে রাজপাল যাদবকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, শুনানির এক পর্যায়ে রাজপাল যাদব নিজেই কথা বলতে শুরু করেন। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং আদালতকে বলেন, "আমি এই পরিস্থিতির চাপে বিধ্বস্ত হয়ে যাচ্ছি। যদি আমাকে টাকা দেওয়ার জন্য বারবার হেনস্থা হতে হয়, তবে তার চেয়ে আমাকে আবারও জেলেই পাঠিয়ে দিন। আমি সেখানে থাকতে রাজি আছি, কিন্তু এই মানসিক যন্ত্রণা আর সহ্য পারছি না।"বিচারপতি অভিনেতার এমন আবেগপ্রবণ আচরণে কিছুটা বিস্মিত হন। আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, আইন আবেগ দিয়ে চলে না, বরং প্রমাণের ভিত্তিতে চলে। রাজপাল যাদব এর আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পূরণ করতে কেন ব্যর্থ হয়েছেন, আদালত সেই প্রশ্নও তোলে। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর দিল্লি হাইকোর্ট এই মামলার রায় আপাতত স্থগিত রেখেছে।