তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতেই ভোলবদল হয়েছে রাজ্যের রাজনীতির। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে — এই দুই প্রধান দ্রাবিড় রাজনৈতিক শক্তিকে হারিয়ে মসনদে বসেছেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থালাপথি বিজয় । এই নাটকীয় পরিবর্তনের মাঝেই ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে দেখা করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল দক্ষিণী তারকা রজনীকান্তকে।

অবশেষে রবিবার চেন্নাইয়ের পোয়েস গার্ডেনের নিজস্ব বাসভবনে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করলেন ‘থালাইভা’। স্পষ্ট জানালেন, বিজয়ের এই ঐতিহাসিক জয় যেমন তাঁকে চমকে দিয়েছে, তেমনই স্ট্যালিনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও বিন্দুমাত্র যোগ নেই।

 

নির্বাচন এবং তার পরবর্তী সময়ে তাঁকে নিয়ে তৈরি হওয়া একাধিক জল্পনা ও সমালোচনা প্রসঙ্গে রজনীকান্ত বলেন, “আজ আমি এই সাংবাদিক বৈঠক করছি কারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাকে নিয়ে প্রচুর সমালোচনা করা হচ্ছে। আমি যদি এখন এর জবাব না দিই, তবে মানুষ এই রটনাগুলোকেই সত্যি বলে ধরে নেবে।”নির্বাচনে পরাজয়ের পর ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে দেখা করা নিয়ে রজনীকান্ত জানান, তাঁদের সম্পর্ক রাজনীতির ঊর্ধ্বে। তিনি বলেন,  “ভোটের ফলাফলের পর আমি এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম এবং তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হল। আমাদের বন্ধুত্ব রাজনীতির অনেক ওপরে। কুলাথুর কেন্দ্র থেকে স্ট্যালিন হেরে যাওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছি। তবে ভোটের ফল প্রকাশের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীকেও (বিজয়) আমি তৎক্ষণাৎ শুভেচ্ছা জানিয়েছি।”

 

 

তামিল রাজনীতির দুই প্রধান স্তম্ভের বিরুদ্ধে লড়াই করে জুনিয়র অভিনেতা বিজয়ের এই উত্থানকে কুর্নিশ জানিয়েছেন থালাইভা। তিনি বলেন,“যখন শুনলাম বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে, আমি চরম বিস্মিত হয়েছিলাম! বিজয়ের সঙ্গে আমার বয়সের ব্যবধান ২৮ বছরের। এই রাজ্যে যেখানে দুটি প্রধান দলের আধিপত্য চিরকালের, সেখানে বিজয় সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে লড়াই করে নিজের পরিচয় তৈরি করেছে এবং জয়ী হয়েছে।”
নিজে সক্রিয় রাজনীতিতে আসছেন কি না, সেই জল্পনাতেও জল ঢেলেছেন রজনীকান্ত। তিনি স্পষ্ট করে দেন, “আমি রাজনীতিতে নেই। রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছি বহু দিন হল।”

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসেই রজনীকান্ত তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ না করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছিলেন। যার ফলে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিষেকের জল্পনার অবসান ঘটেছিল। তবে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও, রাজ্যের যেকোনও বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে রজনীকান্তের মন্তব্য যে এখনও কতটা গুরুত্ব বহন করে, রবিবারের সাংবাদিক বৈঠকই তার প্রমাণ।