টলিউড থেকে বলিউড— সর্বত্রই নিজের দুর্দান্ত অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন অভিনেতা রাজেশ শর্মা। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং আশঙ্কাজনক শারীরিক অবস্থার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল বিনোদন জগতে। শোনা যাচ্ছিল, হায়দরাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটিতে সুপারস্টার প্রভাসের সঙ্গে একটি প্যান-ইন্ডিয়া ছবির শুটিং করার সময় কোনও অত্যন্ত বিষাক্ত মাকড়সা বা পোকার কামড়ে গুরুতর জখম হয়েছেন অভিনেতা। এমনকি খোদ অক্ষয় কুমারও অভিনেতার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা দিয়েছিলেন।
তবে এই ‘বিষাক্ত মাকড়সা’-র তত্ত্বকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে এবার আসল সত্যটা সামনে আনলেন রাজেশের আপ্ত সহায়ক। 

রাজেশ শর্মার শারীরিক অবস্থা এবং মাকড়সা কামড়ানোর গুজব নিয়ে সংবাদমাধ্যম ‘আজকাল ডট ইন’ -কে অভিনেতার আপ্ত সহায়ক স্পষ্ট বলেন, “না, না। যা রটছে পুরোটাই ভুয়ো। দাদাকে কোনো বিষাক্ত মাকড়শা কামড়ায়নি! আমি নিজে তো দাদার সঙ্গে চব্বিশ ঘণ্টা থাকি। আমার থেকে ভালো কে জানবে? দাদার শরীরে সুগারের (ডায়াবেটিস) মাত্রা আচমকা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল, আর তা থেকেই এই বিপত্তি। তবে এখন অবস্থা স্থিতিশীল। আগামীকাল শুক্রবারই (১০ই জুলাই) হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে ওঁকে।”

আপ্ত সহায়ক বর্তমানে রাজেশ শর্মাকে স্থিতিশীল এবং বিপদমুক্ত বললেও, মাত্র দু-দিন আগেই কিন্তু পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক ছিল। সেই সময় রাজেশের শারীরিক অবস্থা দেখে চিকিৎসক ডাঃ অভিজিৎ ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন যে, অভিনেতাকে কড়া নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা আশঙ্কা করেছিলেন, সুগারের এই জটিলতা বাড়লে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে, যা ফুসফুসে পৌঁছে গেলে প্রাণঘাতী হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সেই কারণে সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জরুরি চিকিৎসা চালানো হচ্ছিল।

এর আগে অবশ্য অভিনেত্রী ও সঞ্চালিকা সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ও ‘আজকাল ডট ইন’-কে জানিয়েছিলেন যে, রামোজি ফিল্ম সিটিতে শুটিং চলাকালীন সম্ভবত কোনও বিষাক্ত পোকা কামড়েছিল রাজেশ শর্মাকে। আর অভিনেতার আগে থেকেই ক্রনিক ডায়াবেটিস থাকার কারণে সেই পোকার কামড় থেকে শরীরে একটি ভয়ঙ্কর ইনফেকশন বা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল।

তবে রাজেশের আপ্ত সহায়কের দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, পোকা বা মাকড়সার কামড় নয়, মূলত অনিয়ন্ত্রিত হাই-ব্লাড সুগারের (কারণেই রাজেশের এই হঠাৎ অসুস্থতা। আপাতত তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার জন্য প্রস্তুত, যা স্বস্তি দেবে তাঁর অনুরাগী ও গোটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে।