বাংলা মঞ্চের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।প্রয়াত প্রখ্যাত কৌতুকশিল্পী উত্তম দাস। সাতের দশকের শেষ থেকে গোটা আটের দশক জুড়ে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। সেই সময় স্ট্যান্ড আপ কমেডির রমরমা ছিল না। গ্রামবাংলা থেকে শহরতলির মঞ্চে অনুষ্ঠানে দেখা মিলত তাঁর। খড়দহের বাসিন্দা ছিলেন। শিল্পীর সহজ, নির্মল এবং জীবনের গন্ধমাখা কৌতুক ছিল সব শ্রেণির মানুষের প্রিয়। উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত - সবাই সমানভাবে মুগ্ধ হতেন তাঁর পরিবেশনায়। দর্শকরাই ভালোবেসে তাঁকে নাম দিয়েছিলেন ‘হাসির রাজা’।
শুধুই কৌতুকশিল্পী নয়, মঞ্চ সঞ্চালক হিসেবেও ছড়িয়েছিল উত্তম দাসের বিপুল খ্যাতি। তবে শুধু মঞ্চেই কিন্তু আটকে ছিলেন না বাংলার এই শিল্পী। ধীরে ধীরে এতটাই জনপ্রিয় তিনি হয়ে উঠেছিলেন যে তাঁর কাজ ছড়িয়ে পড়েছিল অডিও ক্যাসেটের মাধ্যমে। ‘হাসির মালপোয়া’ ও ‘হাসির হেডলাইট’-এর মতো অ্যালবাম তাঁকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল। আটের দশকের কৌতুকপ্রিয় বাঙালির অন্যতম আলোচনার বিষয় ছিল উত্তম দাস। সেই টেপ-রেকর্ডারের যুগে বাংলার দোকান থেকে বাড়ি -নামী গায়কদের গানের ক্যাসেটের পাশাপাশি সযত্নে রাখা থাকত উত্তম দাসের ক্যাসেট।
তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া টলিপাড়াতে। এবং সবার আগে প্রয়াত শিল্পীর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ইন্ডাস্ট্রি’ লিখলেন, “উত্তম দাস ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি মঞ্চে উঠলেই যেন জাদু সৃষ্টি করতেন। তিনি ছিলেন সত্যিকারের এক প্রতিভা। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর কাজ ও স্মৃতি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে থেকে যাবে। শ্রদ্ধাঞ্জলি।”
