কিশোরী বয়স থেকে প্রিয়াঙ্কার জীবন লাইট ক্যামেরা অ্যাকশনের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে৷ অভিনয় করতে করতে একটি মেয়ের কিশোরী থেকে নারী হয়ে ওঠা৷ সদ্য কিশোরী যে ছেলেটার হাত ধরেছিল, প্রিয় বন্ধু বলে জেনেছিল যাঁকে, সেই ছেলেটাই তাকে উপহার দিল প্রেম। বন্ধুত্ব প্রেম সবকিছুর সঙ্গে জুড়েছিল লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন৷ পর্দার ভাইবোন বাস্তবে প্রণয়ী-প্রণয়িনী। প্রথম প্রেমের ফুল্গুধারা বয়ে চলল অভিনয়, বন্ধুত্ব পেরিয়ে; যৌবনে সে প্রেমে এল উন্মাদনা, প্রেমকে নিজের কাছে পেতে নিজের মনের সঙ্গে চলল লড়াই৷ জিতে গেল ভালবাসা৷ পাখির নীড়ে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার 'সহজ' জীবন৷ কিন্তু জীবন তো সরলরেখা নয়৷ চড়াই উতরাই পেরোতে পেরোতে প্রেমের সুতোয় জট পেকেছে, দুই বন্ধুর মানসিক রক্তক্ষরণ, সেই জট ছাড়াতে চেষ্টা করেছেন দু'জনেই। কারণ সব কিছুর পরে বন্ধুত্ব ছিল অটুট৷ পারস্পরিক সম্মান এবং শ্রদ্ধার ভিতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বন্ধুত্ব যেন 'বন্ধনহীন গ্রন্থি'। সময়ের স্রোতে ভাসতে ভাসতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার জীবনের দুটি পথ মিলে গেল 'সহজ' সেতুতে এসে৷ এই মিলন বন্ধুত্বের, এই মিলন প্রথম প্রেমের, এই মিলন সবটুকু গ্রহণ করার, এই মিলন কিশোর কিশোরীর প্রেমের পরিণত মনন যা অভিভাবকের দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷
জীবনের গতিপথ বদলায়৷ অপ্রত্যাশিত ঝড়ে তছনছ হয় মনের ঘর দুয়ার৷ কিন্তু সেদিনের কিশোরী হার মানতে শেখেনি৷ বন্ধুত্বের অদৃশ্য হাত ধরে কঠিন পথ 'সহজ' মাধ্যমে হেঁটে চলেছেন প্রিয়াঙ্কা। অভিনেত্রী বলছেন হার মানলে চলবে না। প্রিয়াঙ্কার কথায় "জীবনে কঠিন সময় আসবেই৷ ব্যক্তিগত এবং পেশাগত দুই দিকেই চ্যালেঞ্জ আসবে৷ কঠিন সময়কে জীবনের একটা অধ্যায় হিসাবে দেখতে হবে৷ যে অধ্যায়টা পেরোনো অসম্ভব মনে হলেও পেরিয়ে যাবে একদিন৷ শুধু হার মানলে চলবে না এবং নিজেকে আপডেট করতে হবে৷ চারপাশে সবকিছু প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে৷ মানুষ হিসাবে নিজের ভাবনাচিন্তার পরিধিও বাড়াতে হবে৷ শুরুর দিন যতটা আগ্রহ যতটা যত্ন ছিল কাজের প্রতি, সেটা রাখতেই হবে৷ এবং নিজের একটা সাপোর্ট সিস্টেম তৈরি করা জরুরি৷ কখনও কখনও জীবনযুদ্ধে একা লড়াই করা সম্ভব হয় না৷ তখন চারপাশে কিছু কাছের মানুষের উপর নির্ভর করতেই হয়৷ ডিসিপ্লিন খুব গুরুত্বপূর্ণ, লক্ষ্য স্থির থাকা প্রয়োজন। এটুকু থাকলেই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পথ কিছুটা সহজ করা সম্ভব। "
















