অক্ষয় কুমার না কি শাহরুখ খান—সাধারণ মানুষের চরিত্রে কে বেশি মানানসই? এই চিরন্তন বিতর্কে এবার ঘি ঢাললেন খোদ প্রবাদপ্রতিম পরিচালক প্রিয়দর্শন। তাঁর আসন্ন ছবি ‘ভূত বাংলা’-র প্রচারের মাঝেই অক্ষয় ও শাহরুখের অভিনয় শৈলী এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে বিস্ফোরক তুলনা করলেন তিনি।
বলিউডের দুই তারকা—অক্ষয় কুমার এবং শাহরুখ খান। একজন ‘খিলাড়ি’, অন্যজন ‘কিং খান’। কিন্তু পর্দায় সাধারণ মানুষের লড়াই ফুটিয়ে তুলতে কে বেশি দক্ষ? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক প্রিয়দর্শন সাফ জানিয়ে দিলেন, এই লড়াইয়ে অক্ষয় কুমারের ধারেকাছে কেউ নেই।
অক্ষয়ের সঙ্গে ‘হেরা ফেরি’, ‘ভুলভুলাইয়া’ বা ‘খাট্টা মিঠা’-র মতো কালজয়ী ছবি উপহার দিয়েছেন প্রিয়দর্শন। তাঁর মতে, অক্ষয়ের সবথেকে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। প্রিয়দর্শন বলেন, "অক্ষয়কে একদম সাধারণ মানুষের মতো দেখায়। বিশেষ করে খাট্টা মিঠা-র সময় ওর হাঁটাচলা দেখে মনেই হচ্ছিল ও একজন স্ট্রাগলিং রোড কন্ট্রাক্টর।" পরিচালকের দাবি, জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলোই অক্ষয়কে মাটির কাছাকাছি চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, শাহরুখ খানকে নিয়ে প্রিয়দর্শনের পর্যবেক্ষণ বেশ চমকপ্রদ। ২০০৯ সালের ছবি ‘বিল্লু’-র শ্যুটিংয়ের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, দক্ষিণের এক প্রত্যন্ত গ্রামে শাহরুখকে নিয়ে যাওয়ার পর অভিনেতা নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। প্রিয়দর্শনের কথায়, "শাহরুখের বেড়ে ওঠা দিল্লিতে, ওর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বড্ড বেশি পলিশড এবং শহুরে। ও কোনদিনও গ্রাম্য চরিত্রে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারবে না।"
প্রিয়দর্শন মনে করেন, ‘হেরা ফেরি’-র মতো ছবির সাফল্যের চাবিকাঠি হলো ‘দারিদ্র্যের হিউমার’। টাকার জন্য মানুষের মরিয়া হয়ে ওঠাই পর্দার কমেডিকে জীবন্ত করে তোলে। আপাতত প্রিয়দর্শন ও অক্ষয় জুটি ফিরছেন ‘ভূত বাংলা’ নিয়ে, যা ২০২৬-এর এপ্রিলেই মুক্তি পাওয়ার কথা। এই ছবিতে দেখা যাবে টাবু, পরেশ রাওয়াল এবং রাজপাল যাদবকেও।
অন্যদিকে, শাহরুখ খান এখন ব্যস্ত তাঁর হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশন ছবি ‘কিং’ নিয়ে। ২০২৬-এর বড়দিনে মুক্তি পেতে চলা এই ছবিতে দীপিকা পাড়ুকোন এবং সুহানা খান ছাড়াও থাকছেন অনিল কাপুর, রানী মুখার্জি এবং জ্যাকি শ্রফের মতো বিশাল তারকা সমাবেশ।
















