সালমানের পর প্রীতি জিন্টার বড় জয়! এআই (AI) ডিপফেক ও ভুয়ো ছবি সরানোর নির্দেশ দিয়েছে বম্বে হাই কোর্ট। বিচারপতি মাধব জামদার একটি অন্তর্বতীকালীন নির্দেশ দিয়েছেন বুধবার, সেখানে তিনি বলেছেন, এই ধরনের বিষয় একজন মানুষের ভাবমূর্তি এবং মৌলিক অধিকারকে নষ্ট করে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে বলিউড তারকাদের ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে ভুয়ো কনটেন্ট ছড়ানোর ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক। এই পরিস্থিতিতে বড় স্বস্তি পেলেন অভিনেত্রী প্রীতি জিন্টা। তাঁদের ব্যক্তিত্বের অধিকার (Personality Rights) রক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দিয়ে AI-নির্মিত ডিপফেক, বিকৃত ছবি এবং অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বিভিন্ন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে বম্বে হাই কোর্ট। এর আগে একই ধরনের মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি পেয়েছিলেন অভিনেতা সালমান খান।
আদালতে দায়ের করা আবেদনে প্রীতি জিন্টা অভিযোগ করেন, তাঁদের নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর ও পরিচিতিকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও ভুয়ো কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে AI-তৈরি ডিপফেক ভিডিও, মর্ফড ছবি এবং অনুমতি ছাড়া তৈরি প্রচারমূলক সামগ্রীও রয়েছে। এসব কনটেন্ট তাঁদের ভাবমূর্তি ও ব্যক্তিগত অধিকারে আঘাত করছে বলেই আদালতের দ্বারস্থ হন অভিনেত্রী।
মামলার শুনানিতে বম্বে হাই কোর্ট প্রাথমিকভাবে আবেদনকারীদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে ওই ধরনের কনটেন্ট অপসারণের নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তাঁর পরিচয়, ছবি বা কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বাণিজ্যিক কনটেন্ট তৈরি করা ব্যক্তিত্বের অধিকারের লঙ্ঘন হতে পারে। তাই এই ধরনের AI-নির্ভর অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি AI প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি ডিপফেক ভিডিও ও ছবি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বলিউডের একাধিক তারকা এর শিকার হয়েছেন। এর আগে সালমান খানও তাঁর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়ো কনটেন্ট ছড়ানোর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি পান। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন প্রীতি জিন্টাও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশ শুধু অভিনেত্রীর জন্য নয়, ভবিষ্যতে AI-নির্মিত ভুয়ো কনটেন্টের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় আদালতের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে আরও বহু মানুষকে আইনি সুরক্ষা পেতে সাহায্য করতে পারে।















