বাংলার ঘরে ঘরে এখন স্মার্ট মিটার বসানোর ধুম লেগেছে। অথচ নতুন এই প্রযুক্তিতে আনন্দের চেয়ে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজই বেশি।
2
18
মোবাইল রিচার্জের মতো টাকা ফুরোলেই ঘরের বিদ্যুৎ বন্ধ- এই নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে মধ্যবিত্তের রাতের ঘুম ওড়ার জোগাড়।
3
18
অনেকেরই অভিযোগ, ১০০ বা ২০০ টাকা রিচার্জ করলেই তা নাকি চোখের পলকে উধাও হয়ে যাচ্ছে! তবে কি নতুন মিটার বেশি জোরে ঘুরছে?
4
18
আসল বিষয়টা বিদ্যুৎ চুরির বা মিটার দ্রুত ঘোরার নয়। প্রিপেড মিটারের হিসাব-নিকাশের অঙ্কটা একটু আলাদা।
5
18
অনেকেই হয়তো জানেন না, স্মার্ট মিটারের একটা নিজস্ব ‘রোজকার খরচ’ রয়েছে। আপনি যদি ঘর অন্ধকার করে, পাখা বন্ধ করে সপরিবারে বেড়াতেও যান, তবুও প্রতিদিন আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট কিছু টাকা কাটা যাবেই।
এর মধ্যেফিক্সড চার্জ, সরকারি বিদ্যুৎ কর, মিটার ভাড়া আছে।
6
18
ফলে, আপনি যখনই ১০০ বা ২০০ টাকার মতো ছোট অঙ্কের রিচার্জ করছেন, তখন রিচার্জের টাকার একটা বড় অংশই কেটে নেওয়া হচ্ছে এই দৈনিক বাঁধাধরা খরচ মেটাতে। ফলে আসল বিদ্যুৎ পোড়ানোর জন্য অবশিষ্ট টাকা আর বেশি থাকছে না।
7
18
মধ্যবিত্তের সুবিধার্থে বিশেষজ্ঞরা একটা আনুমানিক হিসাব দিচ্ছেন। তবে মনে রাখবেন, বাড়িতে এসি বা গিজার চললে এই হিসাব খাটবে না।
8
18
১০০ টাকায়, ২ থেকে ৩ দিন। দৈনিক ৩-৪ ইউনিট খরচ হলে ফিক্সড চার্জ কাটার পর এই টাকা দ্রুত ফুরিয়ে যায়।
9
18
২০০ টাকায় ৫ থেকে ৭ দিন। কেবল আলো, পাখা, টিভি এবং ফ্রিজ চললে এই রিচার্জে সপ্তাহ খানেক চালানো সম্ভব।
10
18
৫০০ টাকায় ১৫ থেকে ১৬ দিন। মধ্যবিত্ত গৃহস্থালির জন্য এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয়। তবে এসি বা গিজার চললে এই হিসাব মিলবে না।
11
18
অনেকেরই অভ্যাস, ফুরিয়ে গেলেই ১০০ বা ২০০ টাকার টুকটাক রিচার্জ করা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে আখেরে লোকসানই বাড়ে।
12
18
বারবার ব্যালেন্স দেখার ঝক্কি তো আছেই, তার ওপর অসাবধানতায় টাকা শেষ হলে যেকোনও মুহূর্তে ঘরের আলো নিভে যেতে পারে।
13
18
আজকাল বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে রিচার্জ করলে প্রতিবার ‘প্ল্যাটফর্ম ফি’ বা ‘প্রসেসিং ফি’ বাবদ বাড়তি টাকা পকেট থেকে খসে। ফলে বারবার রিচার্জ করা মানেই বারবার বাড়তি টাকা দেওয়া।
14
18
তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো, মাসে এক বা দু’বারে একটু বড় অঙ্কের টাকা রিচার্জ করে নেওয়া।
15
18
স্মার্ট মিটারের যুগে বিদ্যুতের রাশ কিন্তু আপনার নিজের হাতেই। কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই মাসকাবারি খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
16
18
ঘর থেকে বেরোনোর সময় নিয়মিত আলো-পাখা বন্ধ করার নিয়ম মেনে চলুন। সাধারণ বা পুরনো ফিলামেন্ট বাল্বের বদলে কম ওয়াটের এলইডি আলো ব্যবহার করুন।
17
18
গরমকালে এসি চালালেও তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখুন। এতে কম্প্রেসরের ওপর চাপ কম পড়ে এবং ইউনিট কম পোড়ে।
18
18
মোবাইলের অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত মিটারের ব্যালেন্স এবং বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণের দিকে নজর রাখুন, যাতে আচমকা বিপাকে পড়তে না হয়।