প্রথম দেখাতেই ওয়াহিদা রেহমানের প্রেমে পড়েন গুরু দত্ত। তাঁর মনে হয়েছিল নিজের যোগ্য সঙ্গীকে খুঁজে পেয়েছেন। এরপর বেশ কয়েক বছর তাঁরা একত্রে কাজ করেন। শুধু তাই নয়, গুরু দত্ত তাঁর ছবিগুলো ওয়াহিদা রেহমানকে কেন্দ্র করেই সাজাতেন। একদিকে যখন ওয়াহিদা রেহমানের সঙ্গে গুরু দত্তের সম্পর্ক ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে, তাঁদের ঘনিষ্টতা বাড়ছে, সেই সময় অভিনেতার স্ত্রী গীতা দত্ত স্বাভাবিক ভাবেই একটা টলমল সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। 

এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, গীতা দত্তের সঙ্গেও প্রেম করেই বিয়ে করেছিলেন গুরু দত্ত। সমাজের বিরোধিতা করে এক হয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু ওয়াহিদা রেহমান অভিনেতার জীবনের এন্ট্রি নিতেই সেই সাজানো সংসার ধীরে ধীরে শেষ হতে থাকে। এমনকী তাঁরা আলাদাও হয়ে যান। 

গীতা দত্ত একবার গুরু দত্তকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি বুঝত পারছিলেন যে তাঁর স্বামী তাঁকে ঠকাচ্ছেন। কিন্তু সেই বিষয়টা নিয়ে যখন তিনি তাঁর স্বামীর মুখোমুখি হন তখন তাঁর গায়ে হাত তোলেন গুরু দত্ত। 

স্বামীর পরকীয়ার বিষয়ে কানাঘুষোয় শুনতে পাচ্ছিলেন গীতা, কিন্তু প্রমাণ পাননি। একটা সময় গুরু দত্তের ঘনিষ্ঠ আব্রারের কাছে যান বিষয়টা জানতে। তিনি অস্বীকার করেন সব জেনেশুনেও। তখন গীতা দত্ত নিজে ওয়াহিদা রেহমান হয়ে একটি ভুয়ো চিঠি লেখেন গুরি দত্তকে। এবং একটি গোপন জায়গায় আসতে বলেন। গুরু দত্ত চিঠিটা পেয়ে বুঝেছিলেন এটা ওয়াহিদার লেখা নয়, বরং তাঁর স্ত্রীর কাজ। সেটার প্রমাণ পেতে ওই জায়গায় যান এবং গীতা দত্তের গাড়ি দেখেন। পরে বাড়ি এসে স্ত্রীর মুখোমুখি হন, গীতা দত্ত তখন তাঁদের সম্পর্কের কথা জিজ্ঞেস করলে গুরু দত্ত তাঁকে চড় মারেন। 

এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, গুরু দত্ত এবং গীতা দত্ত প্রেম করে জীবন শুরু করলেও তাঁদের মধ্যে বিস্তর ফারাক ছিল। তাঁদের সম্পর্ক শুরু হয় যখন সেই সময় গীতা দত্ত জনপ্রিয় গায়িকা, হাজার হাজার টাকা উপার্জন করেন। অন্যদিকে গুরু দত্ত সবে কেরিয়ার শুরু করেছেন, বাসে, ট্রামে চড়েন। দুজনের পরিবারেও বিস্তর ফারাক ছিল। তারপরও তাঁরা বিয়ে করেন, দুটি সন্তান হয়। কিন্তু দুজনের দুই রকমের ব্যস্ততা থাকার দরুন একে অন্যকে সময় দিতে পারেন না। এছাড়া গীতা দত্ত ভীষণ মদ্যপান করতেন, সেটাও তাঁর কেরিয়ারকে দারুণ প্রভাবিত করেছিল।