শর্তের বিয়ে কি ভুলে যাচ্ছে ছুটি? অভির প্রতি কি অজান্তেই দুর্বল হয়ে পড়ছে সে? কী চলছে স্টার জলসার ধারাবাহিক 'প্রতিজ্ঞা'র সেটে? জানতে আজকাল ডট ইন পৌঁছে গিয়েছিল টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে। 

ধুন্ধুমার ফ্লোর 

ফ্লোরে তখন চিৎকার করছেন সহ-পরিচালক। কারণ, শুটিংয়ের মাঝে ফ্লোরের মধ্যে কেউ জোরে ভিডিও চালিয়ে শুনছিল। ফলে ব্যাঘাত ঘটেছে সাউন্ডে। ঠান্ডা মাথায় পরিচালক অমিত দাস ব্যাপারটা সামাল‌ দেন। একদিকে এসি চলছে না, গরমের মধ্যে নায়ক ঘেমে স্নান। তবুও শুটিং থামছে না। পরিচালকের নির্দেশে বিভিন্ন টুকরো সিন চলছে একটানা। অগত্যা অপেক্ষা করতে বাধ্য। 

বিকেল গড়িয়ে সন্ধের দিকে এগোচ্ছে, তখন পরিচালক একটু ছাড় দিলেন নায়ক-নায়িকাকে। এর মধ্যেই ফ্লোরে এসে হাজির খলনায়িকা ঝুমকি। ফ্লোরের আলো কমতেই আড্ডা জমে উঠল। পর্দার 'অভি' অর্থাৎ রণজয় বিষ্ণু আগে একটু জল খেয়ে বলেন, "আমাদের ফ্লোরে ছুটি থাকলেও জীবন থেকে আপাতত ছুটি হারিয়ে গিয়েছে। কী যে কষ্ট আর কী বলব!" নায়কের দু'পাশে শান্ত হয়ে বসে নায়িকা ও খলনায়িকা। অর্থাৎ অভিকা মালাকার ও স্বপ্নিলা চক্রবর্তী। অভিকাকে সাধারণত চুপচাপ স্বভাবের মনে হয়। সত্যিই কি তাই? প্রশ্ন শুনে মুচকি হাসেন নায়িকা। রণজয় বলেন, "ওর বয়সী মেয়েদের যেমন হওয়া উচিত ও তেমনই। এটাই তো বয়স নিজের এক্সাইটমেন্ট দেখানোর। তবে চুপচাপ ও নয় একেবারেই।"

অভি-ছুটির সংসার

খলনায়িকার চরিত্রে প্রথমবার দেখা যাচ্ছে স্বপ্নিলাকে। কেমন অনুভূতি? অভিনেত্রীর কথায়, "এত ভালবাসা পাচ্ছি দর্শকের কাছ থেকে, আমি নিজেও খুব সারপ্রাইজড ব্যাপারটায়। আমার সঙ্গে ছুটির পর্দায় শত্রুতা থাকলেও বাস্তবে খুব অল্পদিনের মধ্যেই আমরা ভাল বন্ধু হয়ে গিয়েছি।‌ আমাদের বন্ধুত্বে স্পেসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একে অপরের মন বুঝতে খুব একটা দেরি হয় না। কথার মাঝেই পরিচালক একবার এসে দেখে গেলেন আড্ডা কেমন চলছে। হাতের ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটে কাজ শুরু হবে। অভিকা নাকি পরিচালকের খুব বাধ্য? নায়িকার কথায়, "হ্যাঁ, এটা ঠিক। আমি অমিতদা শুধু নয়, সব পরিচালকদের থেকেই কাজ শিখি। আর অমিতদা আমায় মা বলে ডাকে মাঝেমধ্যে। খুব মিষ্টি লাগে। স্নেহ করে আমাদের সবাইকে। তাই কাজটা এত ভাল করে করতে পারি।" সাংসারিক অশান্তির চাপে অভি তো নাজেহাল। বাস্তবেও সবেমাত্র বিয়ে হয়েছে রণজয়ের, শ্যামৌপ্তির সঙ্গে ঝগড়া বেড়েছে না কমেছে? নায়কের কথায়, "এটা তো চাপের ব্যাপার। আসলে শুটিংয়ে এত রকম সিন করতে হয়, তাই সাংসারিক চাপটা ভুলে যাই। কী ডিপ্লোম্যাটিক একটা উত্তর দিলাম! যাক, শ্যামৌপ্তি খুশি হবে।"

এবার সময় শেষ আড্ডার। পরিচালককেও সবাই দলে টানার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু এমন তাড়াহুড়ো শুরু করলেন, যে অগত্যা সবাইকে ফ্লোরের দিকে রওনা দিতে হল।