রাজনীতিতে বদল আসতেই তোলপাড় টলিউড। টলিউডে স্ক্রিনিং কমিটি নিয়ে আলোচনায় বসতে চায় ইন্ডাস্ট্রির প্রযোজক, পরিবেশকরা। তবে মিটিংয়ে নারাজ ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। আগামিদিনে কীভাবে চলবে স্ক্রিনিং কমিটি, কোন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মুক্তি পাবে ছবি, সেই নিয়েই আলোচনায় বসতে চায় ইন্ডাস্ট্রির কিছু ব্যক্তিত্ব। এখানেই বাধ সেধেছিলেন পিয়া। তবে এর মাঝেই ইম্পার অফিসে পৌঁছে পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনেন টলিউডের অনেকে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবেশক শতদীপ সাহা। 

তাঁদের অভিযোগ পিয়া সেনগুপ্ত কারচুপি করেছেন বহু টাকার। বিভিন্ন ছবি মুক্তি আটকে সেখান থেকে টাকা তছরুপের দাবিও এনেছেন অনেকে। শুক্রবার ফের ইম্পায় মিটিং ছিল। মিটিংয়ে পিয়া সেনগুপ্তর ইম্পা সভাপতি পদের পদত্যাগের দাবি ওঠে। কিন্তু জানা যাচ্ছে, নিজের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ একেবারেই মানতে নারাজ পিয়া। 

তিনি সাংবাদিক বৈঠকে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে যে যে অভিযোগ এসেছে তার তথ্য প্রমাণ সামনে এলেই তিনি পদত্যাগ করতে রাজি। আগে অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্ত কিছু প্রমাণিত হবে, তারপর তিনি ইম্পা ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে, শতদীপরাও খুব তাড়াতাড়ি সমস্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আনবেন বলে জানিয়েছেন। 

প্রসঙ্গত, ইম্পার আগের বৈঠকে আরও একটি প্রসঙ্গ উঠে আসে। বুধবার দুপুরে পরিচালক জয়ব্রত দাস হোয়াটসঅ্যাপের একটি চ্যাটের স্ক্রিনশট পোস্টে করে জানান 'অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস' ছবিটি মুক্তি পাওয়ার সময় ইম্পার থেকে ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। এই বিষয়ে এদিন এই সংগঠনের তরফে জানানো হয়, বিষয়টি পিয়া সেনগুপ্তর কাছে আসেনি। বরং শতদীপ সাহার মাধ্যমে ফেডারেশনকে ১২ লাখ টাকা দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ছবিটি মুক্তির আলো দেখে। সেই সময় ইম্পা বলেছিল ৮ লাখ টাকা দিতে, কারণ কোনও টেকনিশিয়ান ছাড়াই তাঁরা এই ছবির শুটিং করিয়েছিলেন। প্রতিদিন ২ লাখ টাকা করে হিসেব করলেও ৪ দিনে ৮ লাখ টাকা হয়। সেই হিসেবেই এই টাকা চাওয়া হয়েছিল। এই নিয়েও তোলপাড় শুরু হয়েছিল। 

শুক্রবারের মিটিংয়ে টলিউডের ইম্পার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আলোচনা স্থগিত রয়েছে পরবর্তী মিটিং পর্যন্ত।