বিনোদন দুনিয়ার তারকাদের ঝলমলে জীবনের পেছনেও যে কতটা কঠিন লড়াই থাকে, তা আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন পরিণীতি চোপড়া। গত বছর রাঘব চড্ডা এবং পরিণীতির কোল আলো করে এসেছে তাদের প্রথম সন্তান 'নীর'। মা হওয়ার পর লাইমলাইট থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাতৃত্বের দারুণ অনুভূতির পাশাপাশি এর পেছনের কঠিন বাস্তবতা এবং মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেছেন পরিণতি। 

আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করেন, সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার পরেই বোধহয় মায়ের সব কষ্ট শেষ হয়ে যায়। কিন্তু পরিণীতি এই চেনা ধারণাকে একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার মতে, আসল চ্যালেঞ্জটা শুরু হয় মা হওয়ার পর থেকে। সন্তানকে পৃথিবীতে আনার জন্য একজন নারীকে যে মারাত্মক শারীরিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শুরু হয়ে যায় বাচ্চার দেখভালের চব্বিশ ঘণ্টার ডিউটি।

সন্তান প্রসবের পর মায়েদের মানসিক অবস্থা বা 'পোস্টপার্টম ডিপ্রেশন' নিয়েও কথা বলেছেন পরিণীতি । তিনি আফসোসের সুরে বলেন, "অনেকেই ভাবেন মা বোধহয় এমনিই একটু খিটখিটে হয়ে গেছেন বা মন খারাপ করছেন। কিন্তু মানুষ এটা বোঝে না যে, এই সময়ে একজন নারীর শরীরে হরমোনের ব্যাপক ওলটপালট ঘটে।"

অভিনেত্রীর আরও সংযোজন, "বাচ্চাকে খাওয়ানো বা সামলানো হয়তো একসময় সহজ হয়ে যায়, কিন্তু মায়ের নিজের ভেতরে যে মানসিক ঝড় চলে, সেটা সামলানো সবচেয়ে কঠিন। এই সময় পরিবারের, বিশেষ করে স্বামীর মানসিক সমর্থন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। মা ভাল থাকলে তবেই শিশু ভাল থাকবে।"

পর্দার চনমনে পরিণীতি বাস্তব জীবনে এখন একজন সংসারী ও দায়িত্বশীল মা। তিনি রসিকতা করে বলেন, "মা হওয়া মানে একটা-দুটো নয়, একসঙ্গে ১০টি চাকরি করার সমান খাটুনি! তবে সঠিক সময়ে সঠিক মানুষের পাশে থাকা এবং ভালবাসা পেলে একজন নারী যে যে কোনও কঠিন পরিস্থিতি সামলে নিতে পারেন, তা তিনি নিজের জীবন দিয়েই উপলব্ধি করছেন।

মা হওয়ার পাশাপাশি নিজের কেরিয়ারকেও সমান তালে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন পরিণীতি। একদিকে তিনি চালু করেছেন নিজের নতুন ইউটিউব চ্যানেল, অন্যদিকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে তাঁর থ্রিলার ওয়েব সিরিজ 'তালাশ: আ মাদার্স সার্চ'। সেই ছবিতেও পরিণীতিকে মায়ের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে।