ভারতে রেললাইনের জাল বিছানো রয়েছে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এই রেল ব্যবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ১৩ হাজার ট্রেন ছোটে, যাতায়াত করেন ৩০ লক্ষেরও বেশি যাত্রী।
2
10
দেশের প্রায় সাত হাজার স্টেশনের ভিড়ে এমন একটি স্টেশন রয়েছে, যা আর পাঁচটার চেয়ে একেবারেই আলাদা। কারণ, ভৌগোলিক মানচিত্রে এটিই ভারতের শেষ রেল স্টেশন। তার নাম সিঙ্গাবাদ।
3
10
পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার হবিবপুর ব্লকের এই স্টেশনটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত। এর পরেই শুরু হয়ে যায় ওপার বাংলার সীমানা।
4
10
ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই সিঙ্গাবাদ স্টেশনের গুরুত্ব একসময় ছিল অপরিসীম। অবিভক্ত বাংলায় কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল এই রেলপথ।
5
10
ইতিহাস বলে, স্বাধীনতার আগে মহাত্মা গান্ধী এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মণীষীরাও ঢাকা যাতায়াতের জন্য এই পথটি ব্যবহার করেছিলেন।
6
10
কালক্রমে এই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, এই স্টেশনটি দুই দেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৯৭৮ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়, যার মাধ্যমে এই রুটটিকে পণ্য পরিবহনের জন্য সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
7
10
পরবর্তীকালে ২০১১ সালে এই চুক্তি সংশোধন করে নেপালের সঙ্গেও পণ্য আমদানির রাস্তা খুলে দেওয়া হয়। ফলে কৌশলগত দিক থেকে সিঙ্গাবাদ আজও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
8
10
কোনও যাত্রীবাহী ট্রেন না আসায় প্ল্যাটফর্মগুলো আজ জনমানবহীন।
9
10
টিকিট কাটার কোনও তাড়া নেই, কাউন্টারের দরজায় ঝুলছে তালা। একসময়ের জমজমাট স্টেশনে এখন শুধুই নীরবতা। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সামান্য কয়েকজন রেলকর্মী ছাড়া কাউকেই দেখা যায় না এখানে।
10
10
দিনের পর দিন কেবল মালগাড়ি বা গুডস ট্রেনগুলো সীমান্ত পেরিয়ে এপার-ওপার করে। একসময়ের আলো ঝলমলে সিঙ্গাবাদ স্টেশন আজ যেন ইতিহাসের ধুলো মেখে একা দাঁড়িয়ে রয়েছে সীমান্তের শেষ প্রান্তে।
সব ছবি সংগৃহীত।