ওড়িশি নৃত্যের কিংবদন্তি গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র-র জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত হল এক বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠান, ‘পরিজাত ৩’। নামের মধ্যেই স্পষ্টভাবে রয়েছে ভাবনা। ‘পরিজাত’ সেই স্বর্গীয় ফুল, যার সুগন্ধ দেবলোককে মোহিত করে। আর সেই ফুলকেই নৃত্যের ভাষায় রূপ দিয়েছেন গুরু সুতপা তালুকদার।
তাঁর কোরিওগ্রাফিতে ‘পরিজাত’ শুধুই একটি প্রযোজনা নয়, বরং একটি ধারণা। যার প্রতিটি নৃত্যাংশ যেন একেকটি পাপড়ি, মিলেই তৈরি হয় সম্পূর্ণ সৌন্দর্য। এর আগেও দু’বার মঞ্চে প্রস্ফুটিত হয়েছে এই নৃত্যধারা, আর এবার তৃতীয়বারের মতো দর্শকের সামনে ফুটে উঠল তার পূর্ণতা।

১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত গুরুকুলের সঙ্গে এই আয়োজনের সম্পর্ক গভীর। প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন স্বয়ং গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র। তাঁর দেওয়া নামেই আজও এগিয়ে চলছে গুরুকুল, তাঁর শিক্ষার ধারাকে সামনে রেখে। তবে প্রতিষ্ঠান শুধু ঐতিহ্য রক্ষা করেনি, তাঁকে জীবন্ত রেখেছে। কারণ ঐতিহ্য যদি স্থির হয়ে যায়, তবে তা ইতিহাস হয়ে পড়ে থাকে; আর প্রবাহমান থাকলে তবেই তা সংস্কৃতি হয়ে ওঠে।
এই ধারাকেই নতুন মাত্রা দিয়েছেন সুতপা তালুকদার। গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রর উত্তরাধিকারকে ধারণ করে নিজের সৃজনশীলতা যুক্ত করেছেন তিনি। ফলে গুরুকুলের মঞ্চে এখন ঐতিহ্য ও আধুনিক ভাবনার মেলবন্ধন স্পষ্ট।

তবে গুরুকুলের কাজ কিন্তু শুধুই মঞ্চসীমায় আটকে নেই। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি সিএসআর কার্যক্রমের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত সমাজের বহু ছাত্রছাত্রীকে নৃত্যশিক্ষা দিয়েছে। তাঁদের অনেকেই আজ পেশাদার নৃত্যশিল্পী, শিক্ষক বা সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, যা প্রমাণ করে শিল্প কেবল সৌন্দর্যের নয়, সামাজিক পরিবর্তনেরও শক্তিশালী মাধ্যম।
&t=313s
এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী নন্দিনী ঘোষাল ও সম্রাট দত্ত, যাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্মান জানানো হয়, যা গুরুকুলের পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিবেশকেই তুলে ধরে। পারিজাত-এর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক ও মেয়র-ইন-কাউন্সিল দেবাশিষ কুমার, যিনি বর্তমানে গুরুকুলের সভাপতির দায়িত্ব নিপুণভাবে সামলাচ্ছেন।
