বলিউডে পাপারাজ্জিদের নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিশেষত তাদের সম্পর্কে জয়া বচ্চনের কড়া মন্তব্যের পর আবারও তুমুল আলোচনায় এই পেশা ও বিষয়টি। প্রায় ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বলিউডের অনপ্রিয় পাপারাজ্জি বরিন্দর চাওলা মুখ খুললেন এই পাপারাজ্জি সংস্কৃতি, তারকাদের প্রচার সচিব ও তাঁর দলবলের ভূমিকা ও প্রচারের নেপথ্যে লুকোনো সত্যিটা নিয়ে।
সম্প্রতি, দেওয়া সাক্ষাৎকারে বরিন্দর বলেন, “আগে যখন বাবার সঙ্গে কাজ করতাম, নানান ইভেন্টের আমন্ত্রণ আসত। এখনও ছবি, সিরিজের ট্রেলার লঞ্চ, পার্টি...এমন নানা ইভেন্টে ডাকা হয়। তবে তারকার ইন্টারভিউ বা বিশেষ আউটিংয়ের ক্ষেত্রে আমরা টিপ-অফ পাই। কিন্তু প্রত্যেকবার নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিমানবন্দরে পাপারাজ্জিদের আলাদা টিম থাকে, ২৪ ঘণ্টাই তাঁরা সেখানে থাকে। এতটাই অ্যাকটিভ থাকে। মুম্বইয়ের প্রাইভেট এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পাপারাজ্জিদের এই এই নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে আছে। আসলে বিমানবন্দরের অন্দরের সূত্র থেকেই আমরা খবর পাই কে আসছেন, কে যাচ্ছেন। তাই এটা বলা ভুল যে সব জায়গায় তারকার প্রচার সচিবরা-ই ডাকে। আমাদের নিজেদেরও একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক আছে আছে। আমাদের ছেলেরা এমনকী তারকাদের গাড়ির নম্বরও মুখস্থ করে রেখেছে।”
বরিন্দর আরও জানান, তারকাদের পিআর টিম অনেক সময় পরিচিত পাপারাজ্জির বাইরে আরও অনেক অজানা ফটোগ্রাফারকে ডেকে জমাটি ভিড় তৈরি করে। তিনি বলেন, “একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখলাম বিপুল সংখ্যক ক্যামেরাম্যান। কাউকে চিনি না। সেখানকার পিআরকে জিজ্ঞেস করলে সে জানাল, ওই ভিড়টাই নাকি দরকার ছিল। তাই ৬০ জন ফটোগ্রাফার ডাকা হয়েছিল! বুঝুন!”
গোটা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তাঁর মন্তব্য, অভিনেতাদেরও বোঝা উচিত, সবাই যে প্রতিষ্ঠিত মিডিয়া কর্মী নন, অনেকেই ইউটিউবার বা অন্য কেউ। ফলে অনেক সময় অসংলগ্ন মন্তব্যও আসে আশপাশ থেকে, যা তারকাদের অস্বস্তিতে ফেলে।তিনি এরপর অভিযোগ করেন, এখন তারকারা ফ্যান ক্লাবের চিৎকার–চেঁচামেচি বেশি পছন্দ করেন, সাংবাদিকদের নয়। “ট্রেলার লঞ্চে ফ্যান ক্লাব সামনে, মিডিয়া পিছনে! এটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগই দেওয়া হয় না,” বললেন বরিন্দর।
এ প্রসঙ্গে বলিউডের হালচালের সঙ্গে দীর্ঘ বছর পরিচিত এক সাংবাদিক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরলেন শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’–এর ট্রেলার লঞ্চের কথা। যেখানে মিডিয়াকে দূরে রেখে সামনে রাখা হয়েছিল শুধুই শাহরুখের রসখ্যাপার দলকে!
পাপারাজ্জি ভিকি লালওয়ানি বলেন, “এখন ভিড়ও কেনা হচ্ছে। রাজনীতিতে যেমন জনসভা ভাড়া হয়, এখন বলিউডেও তাই। ২০০ জন দর্শক বসে থাকে, কিন্তু কেউ কঠিন প্রশ্ন করে না, কারণ তারা টাকা পেয়েছে।” প্রখ্যাত সাংবাদিক উজ্জ্বল ত্রিবেদীর অভিযোগ আরও বিস্ফোরক - পিআর সংস্থাগুলোরই এখন নিজস্ব ওয়েবসাইট, নিজস্ব ফান্ডিং, আর সেই প্ল্যাটফর্মেই নিজেদের মতো করে তারকাদের নিয়ে লেখা প্রকাশ করানো হয়। তার ভাষায়, “তারকারা নিজেদের চারপাশে এক ‘মিথ্যে দুনিয়া’ বানিয়েছেন। তাঁদের ঘিরে হাততালি, উচ্ছ্বাস সবটাই সাজানো। আর তাঁরাও সেটাকেই সত্যি ভেবে নিয়েছেন।”
বলিউডের ঝলকানি ও গ্ল্যামারের আড়ালে এই অদৃশ্য ‘ম্যানুফ্যাকচার্ড ইমেজ’-এর খেলাই এখন নতুন করে প্রশ্ন তুলছে - আসলে তারকাদের ঘিরে যে উচ্ছ্বাস, তা কতটা বাস্তব, আর কতটাই বা তৈরি করা?
