‘দাশরথি’ নাম বললে তাকে চট করে কেউ চিনবে? কিন্তু যদি বলা হয় ‘পাগলা দাশু’? ব্যস! সুকুমার রায়ের সৃষ্টি এই ‘মহামানব’কে চিনতে এক মুহূর্ত দেরি হবে না বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের। সুকুমার রায়ের অমর সৃষ্টি ‘পাগলা দাশু’। তার রংদার,মজাদার সব কীর্তির জন্যেই আট থেকে আশির মনেই গেঁথে রয়েছে দাশু। বই তো মন ভাল করে দেওয়ার ওষুধ। আর পাগলা দাশুর গল্প যেন ছোট থেকে বড়দের বিনোদনের খোরাক জোগায়। তাই পাগলা দাশুকে চেনেন না এমন মানুষ খুব কম। এবার আর বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না পাগলা দাশুর দুষ্টুমি। বড়পর্দায় আসতে চলেছে এই চরিত্র।

গল্পের বইয়ের নানা চরিত্র নিয়ে বড়পর্দায় এর আগেও বহু কাজ হয়েছে। তবে পাগলা দাশুকে নিয়ে প্রথমবার হচ্ছে ছবি। ভাবনায় ও পরিচালনায় রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পর্দায় 'পাগলা দাশু'কে ফুটিয়ে তুলতে চলেছেন অভিনেতা পূষণ দাশগুপ্ত। পাগলা দাশুর নানা কীর্তি নিয়ে ছোট ছোট গল্প এর আগে পাঠক পড়েছেন। তবে বড়পর্দায় ছবিটি কোনও একক গল্প নয়—দাশুর একাধিক কীর্তিকে একসূত্রে গেঁথেই তৈরি হচ্ছে চিত্রনাট্য। ফলে দর্শক পাবেন পরিচিত নানা মুহূর্তের নতুন উপস্থাপনা। যেহেতু এই গল্পের মূল আকর্ষণ পাগলা দাশুর চরিত্রটিই, তাই এই গল্পকে আরও কমেডির মিশেলে সাজাচ্ছেন পরিচালক। তবে ছবিতে পূষণের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে বহু টলি তারকাকে। এই তালিকায় অন্যতম নাম পরান বন্দ্যোপাধ্যায়-এর। থাকছে একাধিক নতুন মুখও। সব মিলিয়ে পাগলা দাশু ধীরে ধীরে প্রস্তুতি নিচ্ছে বড়পর্দায় অভিষেকের।
'পাগলা দাশু' ছবিতে দাশুর স্কুলের ‘হেড মাস্টারমশাই’-এর চরিত্রে রয়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। আজকাল ডট ইন-কে এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, “অনেকদিন পর শিশু-কিশোরদের ছবিতে অভিনয় করলাম। খুব ভাল লেগেছে। ছবির এখনও কিছু অংশের শুটিং বাকি রয়েছে। দেখুন, যে বাঙালি গল্পের বই পড়ে, তাঁর হৃদয়ে পাগলা দাশু-র জন্য একটি বিশেষ জায়গা থাকবেই। জোর গলায় বলছি। আর পৃথিবীতে যতদিন শিশু-কিশোরেরা থাকবে, সারল্য থাকবে ততদিন দাশুর গল্পও থাকবে। এ কী কখনও পুরনো হয়?” বলতে বলতে সামান্য থামলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।
খানিক পরে ফের বলে উঠলেন, “এই ছবি তো স্ল্যাপস্টিক কমেডি। সিচ্যুয়েশনাল কমেডির জায়গাও আছে বিস্তর। তাই বেশ খানিকটা সাবধানে অভিনয় করতে হয়েছে। আর আমার চরিত্রটি দাশুর সেই হেড মাস্টারমশাইয়ের। যাঁরা পাগলা দাশু-র গল্পগুলো পড়েছেন, তাঁরা সকলেই জানেন এঁর কথা। দাশুর মাস্তানিতে, পাগলামিতে তিনি একেবারে অতিষ্ঠ। তবে একইসঙ্গে তিনি কিন্তু ভারি মজার মানুষ। ছাত্রদের ভালবাসে। আগলে রাখেন। এই ছবির চিত্রনাট্য দাশুর একাধিক গল্প নিয়ে বোনা হয়েছে। ‘চীনেপটকা’র ওই অংশটা আছে যেখানে হেড মাস্টারমশাইয়ের বসার চেয়ারের তলায় মিহিদানার হাঁড়িতে দাশু পটকা ফাটাবে...আবার দাশুর সঙ্গে কমলালেবুর লেনদেন নিয়ে অঙ্ক কষানোর ব্যাপারে বেশ কিছু মজার কথোপকথনও আছে তাঁর। সবমিলিয়ে বেশ মজার চরিত্রটি। এককথায় দারুণ! নিজের মতো করে গড়ে তুলেছি, সংলাপে নিজের মতো করে মজার ছোঁয়া দিতে চেয়েছি পরিচালকের সম্মতিতে। ”
পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা থেকেই জানা গেল, দক্ষিণ কলকাতার একটি জনপ্রিয় অথচ বেশ পুরনো স্কুলে এই ছবির স্কুল দৃশ্যের অংশের শুটিং হয়েছে। ছবির প্রেক্ষাপট যে সুকুমার রায়ের লেখার সময়ের আশেপাশেই রাখা হয়েছে, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন তিনি। অভিনেতার কথায়, " পোশাক থেকে শুরু করে সেট ডিজাইন, প্রপস -সবকিছুর মধ্যেই একটা পুরনো আমলের ব্যাপার আছে। এবং আমার বিশ্বাস, সেটা বেশ উপভোগ করবেন দর্শক। পূষণ ভারী বুদ্ধিমান ছেলে, নম্র। কাজ করে আনন্দ পেয়েছি। শিশু-কিশোরদের জন্য ছবি তাই পরিচালক ভীষণ সাবধানী হয়ে, যত্ন করে কাজ করছেন। আমরাও যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। এবার দেখা যাক...”
কথাশেষে তাঁর সংযোজন, “দেখুন, হাসির ছবি, মজার ছবি বরাবরই দেখতে চায় দর্শক। তার উপর পাগলা দাশু তো শুধুই ছোটদের ছবি নয়। যাঁরা বড় হয়েছেন, বৃদ্ধ হয়েছেন এ ছবি তাঁদেরও। বলতে চাইছি, তাঁদেরও এক লহমায় ছোটবেলায় নিয়ে যাবে। তাই এ ছবি ভাল লাগলে ভবিষ্যতেও হয়তো ফে আসতে পারে পাগলা দাশু।”
সব মিলিয়ে, ‘পাগলা দাশু’-র এই বড়পর্দার যাত্রা শুধু একটি ছবি নয়। এটি এক প্রজন্মের স্মৃতিকে নতুন করে ছুঁয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি। এখন দেখার, ‘দাশু’র ক্ষ্যাপামি পর্দায় ঠিক কতটা ঝড় তোলে।
