বলিউডের ‘দিলবার গার্ল’ নোরা ফাতেহি এবং বিতর্ক যেন একে অপরের পরিপূরক। গত কয়েক মাস ধরে ‘নারীবাদ’ বা ‘ফেমিনিজম’ নিয়ে তাঁর একটি পুরনো মন্তব্য ঘিরে উত্তাল ছিল সমাজমাধ্যম। নেটাগরিকদের একাংশ তাঁকে ‘নারীবিদ্বেষী’ তকমা দিতেও ছাড়েননি। অবশেষে সেই বিতর্কের নীরবতা ভাঙলেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং মানুষ আসল প্রেক্ষাপট বুঝতে ভুল করেছে।
২০২৪ সালে রণবীর আল্লাহবাদিয়ার পডকাস্টে নোরা বলেছিলেন, “নারীবাদ আমাদের সমাজকে নষ্ট করে দিয়েছে।” তিনি দাবি করেছিলেন যে পুরুষদের ‘প্রোভাইডার’ এবং মহিলাদের ‘নারচারার’ হওয়ার চিরাচরিত নিয়মই স্বাভাবিক। এই মন্তব্য ভাইরাল হতেই রিচা চড্ডার মতো তারকারা নোরার সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, নারীবাদের সুবিধা নিয়েই আজ নোরা কর্মক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করছেন।
নোরার মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছোট ছোট ক্লিপ বা রিলস দেখে মানুষ তাঁকে বিচার করছে। তিনি বলেন, “আমি কোনও নির্দিষ্ট আদর্শের বিরুদ্ধে নই, আমি উগ্রপন্থার বিরোধী। আমি নিজে একজন স্বাবলম্বী নারী, আমি নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। তাহলে আমি নারীবাদের বিরুদ্ধে যাব কেন? কিন্তু বর্তমানে যেভাবে ‘পুরুষদের প্রয়োজন নেই’ এই ধারণা প্রচার করা হচ্ছে, আমি তার বিপক্ষে।”
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে নোরা তাঁর ছোটবেলার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান যে তিনি একলা মায়ের কাছে বড় হয়েছেন এবং ছোটবেলায় ‘নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি’ বা মা-বাবার যৌথ সান্নিধ্য মিস করেছেন। অভিনেত্রীর মতে, সন্তানের মানসিক বিকাশের জন্য মা ও বাবা, উভয় পক্ষের উপস্থিতির প্রয়োজন। অতিরিক্ত স্বাধীনতা বা ‘হাইপার-ইন্ডিপেন্ডেন্স’ অনেক সময় একাকীত্ব তৈরি করে।
নোরা ফাতেহি স্পষ্ট করেন যে তিনি চান মহিলারা অর্থ উপার্জন করুক, স্বপ্নপূরণ করুক এবং কঠোর পরিশ্রম করুক। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার পক্ষপাতী। তাঁর কথায়, “আমরা স্বাধীন হতে পারি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাদের একে অপরকে প্রয়োজন নেই।”
বিনোদন জগতে নোরার এই নতুন বয়ান নিয়ে আবারও চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন তাঁর সাহসিকতাকে অনেকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন, অন্যদিকে সমালোচকরা এখনও মনে করছেন তাঁর এই চিন্তাধারা আধুনিক চিন্তাধারার সঙ্গে কিছুটা উল্টোগতিতে রয়েছে। তবে আপাতত নিজের অবস্থানে অনড় থেকে নোরা বুঝিয়ে দিলেন, গ্ল্যামার দুনিয়ার চাকচিক্যের আড়ালে তিনি পারিবারিক মূল্যবোধেই বিশ্বাসী।















