সান বাংলার পর্দা কাঁপানো রিয়্যালিটি শো ‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’ মানেই বিনোদনে ভরপুর এনার্জি। বাংলার ঘরে ঘরে মহিলাদের স্বনির্ভরতার স্বপ্ন দেখানোর এই মঞ্চে বিগত দু’বছর ধরে যিনি মুকুটের আসল মণি, তিনি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। কিন্তু এবার সেই চেনা মঞ্চেই জমল মেঘ। আচমকাই খবর, শো থেকে নাকি বিরতি নিতে চলেছেন সঞ্চালিকা খোদ। এই জল্পনা কিন্তু স্রেফ গুঞ্জন নয়, আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিষয়টি নিজেই স্বীকার করেছেন সুদীপ্তা। তবে এর পেছনে কোনও রাগ বা অভিমান নেই, আছে এক শিল্পীর চরম ক্লান্তি।
টানা দু'বছর ধরে সপ্তাহের ৫-৬ দিন মেগা শিডিউলের শুটিং। তার ওপর সপ্তাহান্তে নিজের অভিনয় শেখানোর ক্লাসের ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে দম ফেলার সময় নেই অভিনেত্রীর। সুদীপ্তা খোলাখুলিই বললেন,”হ্যাঁ, আমি বিরতি চেয়েছি। আসলে গত দু’বছর ধরে নিজের জন্য আলাদা করে বিন্দুমাত্র সময় পাচ্ছি না। সব মিলিয়ে আমি একটু ওভারওয়ার্কড। না পারছি বইপত্র পড়তে, লেখালিখি করতে, ভাল সিনেমা-থিয়েটার দেখতে...কিছুই পারছি না। নিজের সন্তানকেও ভাল করে সময় দিতে পারছি না।”
তবে নিজের পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই তিনি স্পষ্ট করেন, এটা কোনও নালিশ নয়। ফ্রিল্যান্সার শিল্পীদের হাতে কাজ থাকা ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু একজন মানুষ ও শিল্পী হিসেবে এই ক্লান্তি যাতে পর্দার ওপারে দর্শকের চোখ এড়িয়ে না যায়, তাই একটু থামা প্রয়োজন। সুদীপ্তার কথায়, “সবসময় পারফর্ম করে গেলে একটু মুশকিল। তাই আমি একটু বিরতি চেয়েছি চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে জানিয়েছেন। আমার কোনও নালিশ, রাগ কিচ্ছুটি নেই।”
সুদীপ্তার এই বিরতি চাওয়ার খবর স্টুডিওর চার দেওয়ালে ছড়াতেই টলিপাড়ায় শোরগোল। তবে কি মাঝপথেই থমকে যাবে ‘লক্ষ্মীলাভ’? খবর ছড়াতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন শো-এর পরিচালক শুভঙ্কর চ্যাটার্জি।আজকাল ডট ইন-এর কাছে পরিচালকের সটান প্রশ্ন, “এত বাজেভাবে এই খবর কারা ছড়াচ্ছে বলুন তো? সুদীপ্তা এই শো গত দু'বছর ধরে সঞ্চালনা করছে। চ্যানেলের সঙ্গে ওর একটা চুক্তি রয়েছে। দুম করে তো আর বললেই ছাড়া যায় না!”
শুভঙ্কর অবশ্য সুদীপ্তার বিরতি চাওয়ার কথাটি উড়িয়ে দেননি। তিনি যোগ করেন, “সুদীপ্তা চ্যানেলকে জানিয়েছে, ওর একটু বিরতি লাগবে। আর সেটা নিয়েই এখন ভাবনাচিন্তা চলছে। এটা তো একটা বড় সিদ্ধান্ত, তাই এখনই এই নিয়ে গুঞ্জন না ছড়ানোই ভাল।” অর্থাৎ, পরিচালকের কথা থেকেই স্পষ্ট—চ্যানেল এবং প্রোডাকশন টিম এখনই সুদীপ্তাকে ছাড়তে নারাজ, বরং মাঝখানের পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে।
এদিকে এই টানাপোড়েনের মাঝেই দর্শকদের বিপুল চাহিদার কারণে ‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’-এর সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিদিন দেড় ঘণ্টা। এখন প্রতি পর্বে তিনজনের জায়গায় খেলছেন চারজন প্রতিযোগী। যুক্ত হয়েছে ‘টাকার গদি’, ‘টাকার খনি’ কিংবা ‘বল ফেলতে টাকা কুলো’-র মতো আরও ধামাকাদার সব রাউন্ড।
একই সঙ্গে এই শো-এর অন্যতম সেরা আকর্ষণ তার তারকা বিশেষ পর্বগুলোর ‘লক্ষ্মী ব্যাঙ্ক’। মাঝেমধ্যেই শোয়ে খেলতে আসা তারকারা যে টাকা জেতেন, তা জমা হয় এই বিশেষ ব্যাংকে। এবার সেই জমানো তহবিল থেকেই সমাজের ছয়জন লড়াকু ‘মা লক্ষ্মী’র হাতে তুলে দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা করে, যাতে তাঁরা নিজেদের স্বপ্নপূরণের পথে আরও এক ধাপ এগোতে পারেন।
সব মিলিয়ে একদিকে যখন আরও বড় পরিসরে মহিলাদের স্বনির্ভরতার ডানায় হাওয়া দিচ্ছে সান বাংলা, তখন সেই ডানা মেলার মূল কাণ্ডারি সুদীপ্তা চক্রবর্তীর থাকা না-থাকা নিয়ে চ্যানেল ও পরিচালকের টেবিলে এখন টানটান আলোচনা। শেষ পর্যন্ত কি ‘ক্লান্ত’ সুদীপ্তাকে ধরে রাখতে পারবে ‘লক্ষ্মীলাভ’, নাকি নতুন কোনও সমীকরণ দেখবে বাংলার দর্শক? উত্তর লুকিয়ে সময়ের গর্ভেই।















