মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বুধবার দেশের শেয়ার বাজারে বড় ধাক্কা দেখা গেল। অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে দিনের শুরুতেই লাল চিহ্নে খুলেছে ভারতের দুই প্রধান শেয়ার সূচক বিএসই সেনসেক্স এবং এনএসই নিফটি।
2
11
সকালে বিএসই সেনসেক্স ৫৩৫.৪৪ পয়েন্ট বা ০.৬৮ শতাংশ পতন হয়ে ৭৭,৬৪৫.২৮-এ নেমে আসে। একই সময়ে এনএসই নিফটি৫০ সূচক ১৫৮.৪৫ পয়েন্ট বা ০.৬৫ শতাংশ হারিয়ে ২৪,২৪১.০০-এ লেনদেন করছিল।
3
11
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সেনাবাহিনীর ইরানের উপর একাধিক হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
4
11
ভারতের মতো অপরিশোধিত তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও প্রভাব পড়তে পারে।
5
11
মার্কিন-ইরান উত্তেজনা বাজারকে আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি কতদিন চলবে এবং এর প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।
6
11
এদিন ভারতীয় টাকাও ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়েছে। আগের দিনের ৯৪.৯৬৭৫ থেকে বুধবার সকালে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমে ৯৫.১৭২৫-এ পৌঁছায়, যা বিদেশি মুদ্রাবাজারেও চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
7
11
সেনসেক্সের শেয়ারগুলির মধ্যে এদিন অধিকাংশই পতনের মুখে পড়ে। যদিও প্রতিরক্ষামূলক খাতের কিছু সংস্থা তুলনামূলক ভাল পারফর্ম করেছে। সান ফার্মা ১.০২ শতাংশ বেড়ে শীর্ষে ছিল। এছাড়া এইচসিএল টেক, ইনফোসিস, টিসিএস, টেক মাহিন্দ্রা এবং পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারেও সামান্য বৃদ্ধি দেখা যায়।
8
11
অন্যদিকে বড় পতনের মুখে পড়ে ইন্ডিগো, এশিয়ান পেইন্টস, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, মারুতি সুজুকি, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা, বাজাজ ফিনান্স, আল্ট্রাটেক সিমেন্ট, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, আইটিসি, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক এবং টাটা স্টিলের মতো সংস্থার শেয়ার।
9
11
বৃহত্তর বাজারেও একই চিত্র দেখা যায়। নিফটি ১০০, নিফটি ২০০, নিফটি ৫০০, মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ সূচকগুলি সবকটিই নিম্নমুখী ছিল। পাশাপাশি বাজারের অস্থিরতার সূচক ইন্ডিয়া ভিক্স ৭ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মাত্রা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
10
11
সেক্টরভিত্তিক সূচকগুলির মধ্যে অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, অটো, আর্থিক পরিষেবা, পিএসইউ ব্যাঙ্ক, এফএমসিজি, মিডিয়া, রিয়েলটি এবং মেটাল খাতে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যায়। তবে ফার্মা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত তুলনামূলকভাবে ভাল অবস্থানে ছিল।
11
11
গত কয়েকদিন ধরে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজারে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন, যা ইতিবাচক সংকেত। যদি মার্কিন-ইরান উত্তেজনা আরও না বাড়ে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই ইতিবাচক প্রবণতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকতে পারে। তবে সংঘাত আরও তীব্র হলে এবং তেলের দাম আরও বাড়লে ভারতের অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারের উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।