শুক্রবার থেকে ভার্চুয়াল বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন জিতু কামাল এবং সায়নী ঘোষ। একাধিক পোস্টে একে অপরকে কড়া মন্তব্য করতে ছাড়েননি কেউই। টলিপাড়ার সেই 'কাদা ছোড়াছুড়ি'-তে 'মাস্টারস্ট্রোক' দিলেন জিতু। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিতে প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতাকে নিয়ে শুক্রবার মাঝরাতে লাইভে এসেছিলেন অভিনেতা। 

অভিনেত্রী তথা তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ তাঁর পোস্টে দাবি করেছিলেন, জীতুর কোনও 'কুকর্ম' জানানোর জন্য নবনীতা তাঁকে ফোন করেছিলেন। আর সেই দাবিকে মিথ্যে প্রমাণ করতে তিন বছর বাদে নবনীতার সঙ্গে ধরা দিলেন জিতু। শুক্রবার রাত দুটো নাগাদ ফেসবুক লাইভে আসেন টলিউডের এই প্রাক্তন দম্পতি। 

ঠিক কী কারণে সেদিন সায়নীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন নবনীতা? আজকাল ডট ইন-কে অভিনেত্রী জানান, সম্পূর্ণ একটা ব্যক্তিগত কারণে সেদিন যোগাযোগ করা হয়েছিল সায়নীর সঙ্গে। নবনীতার কথায়, "আমি গতকাল কথা বলেছি সায়নীর সঙ্গে। জানিয়েছি সেদিন কেন যোগাযোগ করেছিলাম। তবে সেদিন ও আমার ফোনটা ধরেনি তাই ওর পক্ষে জানাটা সম্ভব নয়, আমি কেন ফোন করেছিলাম।"

জিতুর বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে অনেকেই অনেক মন্তব্য করেছেন বরাবরই চুপ থেকেছেন নবনীতা। তাঁরও কি কোনও অভিযোগ আছে প্রাক্তন স্বামীর প্রতি? এই বিষয়ে নবনীতা বলেন, "আমার সঙ্গে জিতুর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এখনও বিভিন্ন সময়ে আমাদের দু'জনের কথা হয়। তাই ওর বিরুদ্ধে যদি কোনও অভিযোগ আমার থেকেও থাকে, তাহলে সেটা ওকেই সরাসরি বলব। আমি রাজনৈতিকভাবে বা সমাজমাধ্যমে সেই নিয়ে কোনও কথা আজ পর্যন্ত বলিনি, আর ভবিষ্যতেও বলব না।"

প্রসঙ্গত, বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও নবনীতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে কোনও তিক্ততা নেই, তাই সায়নীর দাবি ভিত্তিহীন। কার্যত একথাই স্পষ্টভাবে বোঝাতে চেয়েছেন জিতু। এদিন কুলফি খেতে খেতে লাইভ শুরু করেন অভিনেতা। লাইভের জন্য তিনি বেছে নেন কেন্দুয়া শান্তিসংঘের পুজোমণ্ডপের সামনের জায়গাটি। উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হল, এই পুজোর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার খোদ সায়নী ঘোষ! 

ডিভোর্সের তিন বছর পর এই প্রথমবার একফ্রেমে আসেন জীতু-নবনীতা। এদিন রীতিমতো খোশমেজাজে ধরা দেন প্রাক্তন জুটি। সায়নীর অভিযোগকে নস্যাৎ করতে জিতু বলেন,  “ঘোষ মহাশয়া দাবি করেছেন যে আমি নাকি নবনীতার সঙ্গে দিনের পর দিন কুকর্ম করেছি! বাঙালি রাজনীতিবিদদের মধ্যে এই একটা নোংরা ট্রেন্ড আছে— কেউ ডিভোর্স করলেই একজন অন্যজনকে নিয়ে খোঁচা মারো, কাদা ছেটাও।” অভিনেতার আরও সংযোজন, “আমরা এই নোংরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সমাজকে দেখিয়ে দেব যে, ডিভোর্স হওয়ার পরেও আজীবন খুব ভালো বন্ধু হয়ে থাকা যায়।”