রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের আঁচ পড়েছে বাংলা বিনোদন দুনিয়াতেও। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই একের পর ঘটনা ঘটে চলেছে টলিপাড়ায়। বিশেষ করে শিল্প আর রাজনীতি একে অপরকে ব্যবহার করার যে অভিযোগ টালিগঞ্জে বহুদিন ধরে ছিল, তা নির্বাচনের ফল বেরনোর পর নতুন করে চর্চায় এসেছে। স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি থেকে শুরু করে নানা ঘটনায় সমস্যার মুখে পড়েছে টলিউডের কাজকর্ম। এই পরিস্থিতিতে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হল।
টালিগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী মঙ্গলবার, ৩০ জুন বিজ্ঞাপ্তি দিয়ে এই কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যতদিন বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অচল অবস্থা ঠিক মতো না কাটছে ততদিন টালিগঞ্জ বিধানসভা ক্ষেত্রে বাংলা বিনোদন জগতের বিভিন্ন কার্যক্রমকে পর্যবেক্ষণ করা এবং বিধায়কের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট করার জন্য একটি অস্থায়ী কমিটি তৈরি করা হয়েছে।
চলচ্চিত্র জগতের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এই কমিটিতে রাখা হয়েছে, যাতে সব দিকের সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে উঠে আসে। সাত সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন পরিচালক অতনু বসু, ক্যামেরা বিভাগের সোমনাথ ব্যানার্জি, আর্ট ডিরেক্টর উজ্জ্বল সরকার, ম্যানেজার পূর্ণেন্দুশেখর মল্লিক, ভেন্ডর সৈকত দাস এবং শিল্পী কাঞ্চনা মৈত্র। অর্থাৎ পরিচালনা, ক্যামেরা, আর্ট, ব্যবস্থাপনা, পরিষেবা এবং অভিনয়—প্রায় সব ক্ষেত্রের এই প্রতিনিধিদের টলিপাড়ার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে।
মনে করা হচ্ছে, কমিটির মূল কাজ হবে বাংলা বিনোদন জগতের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে বিধায়কের কাছে জমা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও এই কমিটির কাজ কতদিন চলবে, রিপোর্ট কবে জমা দেওয়া হবে বা রিপোর্টের ভিত্তিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেবিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। আপাতত কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্পের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করার।














