কলকাতার নাট্যমঞ্চে ফের একবার শেক্সপিয়রীয় ম্যাজিক! উইলিয়াম শেক্সপিয়রের কালজয়ী রোম্যান্টিক কমেডি ‘টুয়েলফ্থ নাইট’-কে এবার সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে মঞ্চে নিয়ে আসছে কলকাতার অন্যতম চর্চিত নাট্যদল ‘বিডন স্ট্রিট শুভম’। নতুন এই প্রযোজনার রূপান্তর, অনুবাদ এবং নির্দেশনার দায়িত্বে রয়েছেন তরুণ নাট্যব্যক্তিত্ব শরণ্য দে। নাটকটির প্রথম প্রদর্শনীর জন্য আগামী ৪ঠা জুলাই, শনিবার সন্ধে ৬:০০ টা-কে বেছে নিয়েছেন নাট্যদল।
তথাগত বড় মঞ্চের বাইরে, দর্শকদের আরও কাছাকাছি গিয়ে নাটকের স্বাদ দিতে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে একটি আধুনিক ব্ল্যাকবক্স স্পেসে। থিয়েটারটি মঞ্চস্থ হবে শুভমের নিজস্ব রিহার্সাল ব্ল্যাকবক্সে (মিনার্ভা থিয়েটারের ঠিক পাশের গলি)।
ক্লোজ-আপ থিয়েটার বা ব্ল্যাকবক্সের নিজস্ব এক নান্দনিকতা থাকে, যেখানে অভিনেতা ও দর্শকের দূরত্ব মুছে যায়। শেক্সপিয়ারের জটিল মানবিক আবেগ, ভুল বোঝাবুঝি আর প্রেমের এই ক্লাসিক গল্পটি এই ছোট পরিসরে দর্শকদের এক অনন্য ও অন্তরঙ্গ থিয়েটারের অভিজ্ঞতা দেবে বলে আশাবাদী নির্দেশক শরণ্য দে। তাঁর কথায়, “শেক্সপিয়রের কমেডি আমার কাছে সুদূর হালকা মেজাজের ফুরফুরে লেখা নয়। বরং বলব, ডার্ক কমেডি। ব্যাঙ্গাত্মক তো বটেই।এবং সূক্ষ্ম রাজনীতি থাকে এইসব নাটকের পরতে পরতে। আজকের দিনে, এখনকার সমাজেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এইসব নাটক। তাই একটা ক্লাসিক নাটক করব-এই ইচ্ছে থেকেই কিন্তু এই নাটক মঞ্চস্থ করছি না। এইসব কারণেই ‘টুয়েলফ্থ নাইট’ নাটকটি বেছে নেওয়া। আবার বলছি, টুয়েলফ্থ নাইট কিন্তু শুধুই ট্র্যাডিশনাল কমেডি ড্রামা নয়। বরং বেশ কিছু রূঢ় প্রশ্ন ছুড়ে দেয় সমাজের মুখে। অস্বস্তিতে ফেলবে দর্শককে। আরও একটা কথা। অ্যাপিয়ারেন্স এবং রিয়েলিটি আমাদের সমাজে থাকবে বলেই আমার বিশ্বাস। এবং এই যে ইলিউশন আর বাস্তবের দ্বন্দ সে যুগে তো ছিলই, এ যুগে সে দ্বন্দ যেন আরও বেশি। তাই সব মিলিয়ে এখনকার সমাজটাই আমার কাছে টুয়েলফ্থ নাইট -এর ইল্যায়রিয়া।”

শরণ্য আরও বললেন, “এই নাটকের কোনও বঙ্গীয়করণ করা হয়নি। বরং বলতে পারেন, সরলীকরণ করেছি। যদিও নাটকে চরিত্রের সব নাম তো এক রয়েইছে। চেষ্টা করেছি, শেক্সপিয়রের সংলাপের নির্যাসও যেন পায় দর্শক। আর রাজ্যে এইমুহূর্তে প্রেক্ষাগৃহ পাওয়া নিয়ে যা চলছে, তা সবাই জানেন। খুব সমস্যার। তাই সেই একটা কারণ এরকম ইন্টিমেট স্পেসে মঞ্চস্থ করা নাটকটিকে। এবং আর একটি ব্যাপার হল, এরকমভাবে একটা ব্ল্যাকবক্সের মধ্যে শেক্সপীয়রের ক্লাসিক নাটক তো চট করে হয় না। তাই তা করতে গিয়ে শিল্পী হিসেবে আমার উত্তরণ হয়েছে এবং হবে বলেই আমার ধারণা।”
যেহেতু এটি একটি ব্ল্যাকবক্স থিয়েটার প্রাঙ্গণ, তাই নাটকের পরিবেশ বজায় রাখতে দর্শক আসনের ওপর কড়া নিয়ম রাখা হয়েছে। নাট্যদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
আসন সংখ্যা: মাত্র ৩০ জন দর্শক একবারে নাটকটি দেখার সুযোগ পাবেন।
তারিখ ও সময়: ৪ঠা জুলাই, শনিবার, ঠিক সন্ধে ৬:০০ টা।
ঠিকানা: শুভমের নিজস্ব রিহার্সাল ব্ল্যাকবক্স, উমেশ দত্ত লেন (মিনার্ভা থিয়েটারের পাশের গলি), কলকাতা।
শেক্সপিয়রের নাটককে যারা ভালবাসেন এবং কলকাতার নতুন থিয়েটার মুভমেন্টের সাক্ষী হতে চান, তাঁদের জন্য এই শনিবারের সন্ধ্যাটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে চলেছে।














